ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধার সময় বাড়ানো দাবি ব্যবসায়ীদের

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুবিধা চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এই সুবিধা চেয়েছেন বলে সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সার্বিক প্রভাবে রপ্তানির কাঁচামালের দাম বাড়ায় খরচও বেড়েছে। অনেকে অর্ডার দিয়ে ডিসকাউন্টের কথা বলছেন। এ জন্য এফবিসিসিআইয়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুবিধাটি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হোক। যাতে কেউ খেলাপি না হয়।’

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোতে যেন দীর্ঘমেয়াদি ঋণের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আমরা সেই অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন খুবই জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য আমাদের আলাদা কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। সামনে এলডিসি উত্তরণ। এ জন্য বড় বড় শিল্প-কারখানা করা দরকার। কিন্তু নরমাল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।’

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এফবিসিসিআইয়ের বিষয়গুলো আমরা বিবেচনা করে দেখব। তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত জানানো যাচ্ছে না।’

সব ঋণের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শোধ করে ঋণ নিয়মিত করার সুবিধা ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দেয়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি জমা না দিলেও কেউ খেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না। পরে সেই মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এরপর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকলে ঢালাও সুবিধা ধীরে ধীরে কমানো হয়।কিস্তির কোনো অংশ জমা না দিয়েও খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ ২০২১ সালে কমানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *