একই দেশে বৈশাখী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু’ দিনে কেন?

কাজী : বৈশাখী অনুষ্ঠান আমাদের জাতীয় জীবনের ঐতিহ্য কিন্তু একদেশে দুইরকম রীতি কেন? ধর্ম যার যার দেশ ও উৎসব সবার! এই নীতি তো আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ । এ দেশ আমাদের এখানে হিন্দু ,বৈদ্ধ,মুসলিম ,খ্রিষ্টান ও অন্যান্য জাতী সত্ত্বার বসবাস । আমরা প্রত্যেকে একে অন্যের বিপদে কাধে কাধ মিলিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই । এ জাতী সত্ত্বায় আছে এক অন্যরকম সংস্কৃতির ছোয়া । আমরা চাই বাঙ্গালী জাতী হিসাবে শ্রেষ্টত্ব অর্জন করতে । উৎসবের আমেজ সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর হতেই আমাদের জাতী সত্ত্বায় যুক্ত হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা । ফলে আমরা সবাই এক সাথে মিলে পালন করতে পারি নিজ নিজ অনুষ্ঠান । জাতীয় অনুষ্ঠান মালা । কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে হিন্দু ধর্মালম্বী বণিক শ্রেণিরা এর ব্যতিক্রম করেন । তারা আমাদের জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন না করে পহেলা বৈশাখ পালন করেন বৈশাখের দ্বিতীয় দিন ! এখন প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে জাতী হিসাবে তারা কোন জাতী ! জাতীয় অনুষ্ঠান তো আর কাহারো একক সত্ত্বা বহন করে না । হ্যাঁ , তারা যদি হাল খাতা উৎসব করেন তবে তারা তো পহেলা বৈশাখ পালন করতে পারেন তাদের কথা হচ্ছে ( বণিক শ্রেণির ) আমাদের পঞ্জিকা এক দিন পর দিনলিপি হিসাব করা হয় ।তাহলে প্রশ্ন থাকে যে এক দেশে কিভাবে দুই রীতি প্রচলন এ কী হিংসার বহিপ্রকাশ মাত্র !
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্বর্ন ব্যবসায়ি ও সভাপতি শ্রী অজয় কর্মকার কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন কলিকাতার সাথে মিল রেখে আমরা এ উৎসবের আয়োজন করে থাকি । এখানে প্রশ্ন থেকে যায় এদেশে বসবাস করে কেন দাদাদের দেশের রীতি অনুকরন করা তাহলে কি এটা নিছক হিংসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র, নাকি সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির ধারক ও বাহক !
মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণের উচ্ছ্বাসঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবিবৈশাখের উদ্দীপনায় শুর হোক নতুন
বাঙালি নববর্ষের প্রথম দিনে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রায় পা মিলিয়েছে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় । করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি। ২০২১ সালে হয়েছে সীমিত পরিসরে, যেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।
আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয়ও স্থান পেয়েছে এবারের শোভাযাত্রায়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।
মানবতার স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত মঙ্গল শোভাযাত্রার এবারের স্লোগান হচ্ছে- ‘নির্মল করো মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছাযে’।
শোভাযাত্রায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *