কিস্তি ও সুদী ব্যবসায়ীদের পরিশোধের চাপে মুন্সীগঞ্জে মহিলার আত্মহত্যা

কাজী বিপ্লব হাসান: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার যোগিনীঘাট এলাকার আয়েশা বেগম (৬০) কিস্তির টাকা পরিশোধ করার চাপে আত্মহত্যা করেছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার যোগিনীঘাট এলাকার আয়েশা বেগমের দুই সন্তান। এক ছেলে দুবাই প্রবাসী। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে আয়েশা বেগম। সাংসারিক খরচ ও দুবাই প্রবাসী ছেলের টাকা সংগ্রহ করার জন্য এনজিও এবং স্থানীয় সুদি ব্যবসায়ীর থেকে ঋণ গ্রহণ করেন আয়েশা বেগম। সপ্তাহ শেষে কিস্তি পরিশোধ ও স্থানীয় সুদী ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করার চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন তিনি।

নিহতের বড় ছেলে মোঃ সেলিম (৪০) জানান, কয়েক মাস পূর্বে আমার ছোট ভাই দুবাই যাওয়ার পূর্বে স্থানীয় সুদি ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করেন। ঔ টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। বিদেশে অবস্থানরত ছোট ভাইয়ের কোন কাজ না থাকায় দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। বিধায় বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় সুদি ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঋণের চাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছিল। এমনপরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরেই প্রায় এক মাস পূর্বে বিষ পান করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করা হয়। দিন বাড়ার সাথে সাথে ঋণের চাপও বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে মাঠপাড়াস্থ ব্রিলিয়ান্ট স্কুলের কক্ষে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহতের ছোট বোন রিনা বেগম (৫০) জানায়, আমার বড় বোন সংসার পরিচালনা ও দুবাই প্রবাসী ছেলের জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা এনজিও এবং স্থানীয় সুদি ব্যবসায়ীদের থেকে ঋণ নেয়। এই ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরেই বৃহস্পতিবার সকালে তার কর্মস্থলে আত্মহত্যা করে। এ বিষয়ে ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোঃ ফাইজুর জানান, ফাঁসির সংবাদটি পেয়ে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কিছুক্ষণপর মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তারিকুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উক্ত স্থলে সকল বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করে লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে অপমৃত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ময়না তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ০৩-১১-২০২২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *