কোন ৩ লক্ষণ নিঃশব্দে ডেকে আনে হার্ট অ্যাটাকের মতো বিপদ?

অনলাইন ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার মতো সমস্যা যাদের রয়েছে, তাদের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। যেকোনো বয়সে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিকতম একটি সমীক্ষা জানিয়েছে, সকালের দিকে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

চিকিৎসকেরা কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের বেশ কিছু ধরন নিয়েও বার বার সাবধান করেছেন। তাঁরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক যে সব সময় হঠাৎ করে হবে, এমন নয়। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’- এরও শিকার হন অনেকে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, কাশি- হার্ট অ্যাাটাকের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ। তবে এগুলোই যে একমাত্র, তা নয়। এমন অনেক উপসর্গ আছে, যেগুলো হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বলে প্রাথমিক ভাবে না-ও মনে হতে পারে। কিন্তু তেমন কিছু দেখা দিলে জলদি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

১) পেট ব্যথা সাথে বমি বমি ভাব- প্রাথমিকভাবে গ্যাস-অ্যাসিডিটির লক্ষণ বলে মনে হতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম একটি লক্ষণ হতে পারে এটি। বেশ কয়েকবার যদি এমন হয়ে থাকে, তা হলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।

২) হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মুহূর্তে ধমনি হৃৎপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে প্রবল চাপ দেয়। ভেতর থেকে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে শরীরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ঘুম থেকে ওঠার পরে যদি শরীর থেকে ঠান্ডা ঘাম বেরোতে শুরু করে তা হলে সেই মুহূর্তে চিকিৎসকের সাথে কথা পরামর্শ করে নিন।

৩) হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে হালকা বদহজম, গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বাড়ির খাবার খেয়ে, পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরও যদি এমন হতে থাকে তা হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সকালের দিকে কেন বেশি থাকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক উদ্বেগের মতো কয়েকটি কারণে হৃদ্‌রোগ দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর মতে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ মূলত হৃদ্‌রোগ। জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে একটা বয়সের পর থাবা বসাতে পারে হৃদ্‌রোগ। শরীরের প্রতি যত্ন না নিলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থেকে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, যে কোনও বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। সকালের দিকে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

শরীরের হরমোনের নিঃসরণের ওঠা-নামা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। ভোরের দিকে শরীরে সাইটোকিনিন হরমোনের নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি হয়। ফলে হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল থাকলে ‘অ্যারিথমিয়া’ নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

‘ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’-র গবেষকরা জানাচ্ছেন, দিনের বেলায় শরীর বেশি সক্রিয় থাকে। সারা দিনে বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে সব শক্তি ব্যয় হয়ে যায়। রাত হওয়ার সাথে সাথে শরীর ভিতর থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পরিশ্রমের জন্য তখন আর শরীর প্রস্তুত থাকে না। ফলে ঘুম পায়। শরীর ভিতর থেকে যখন বিশ্রাম নেয় ওই সময় রক্তচাপ এবং হৃদ্‌স্পন্দনের হার সবচেয়ে বেশি থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকলাপও জটিল হয়ে পড়ে। হৃদ্‌রোগ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ভোর ৪টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এই সময়টাতে অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বেড়ে যাওয়ার ফলে করোনারি ধমনীতে চাপ সৃষ্টি হয়।

সকালে রক্তের ‘পিএআই-১’ কোষগুলো অধিক সক্রিয় থাকে। এই সক্রিয়তার কারণে রক্তজমাট বেঁধে যায়। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ এটি। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং নিয়মিত ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস কম বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হৃদ্‌রোগ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে দিনে ৭-৮ ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। সেই সাথে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন বাইরের খাবার।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *