খাদ্যপণ্যের দামে তিন দফা ওঠানামা, মাত্র ১২ দিনে

যেসব সবজির দাম রোজা শুরুর আগে হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, সেসব সবজি কেজিতে আগের চেয়ে ১০ থেকে ৩০ টাকা কম দামে গতকাল বিক্রি করতে দেখা যায়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, কল্যাণপুরের নতুন বাজার ও কারওয়ান বাজারে গতকাল প্রতি কেজি শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। যদিও রোজা শুরুর আগে ও পরের দুই দিন মানভেদে প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর রোজার এক সপ্তাহ আগে শসার কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

রোজাকে কেন্দ্র করে কেজিতে অন্তত ৩০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া ধনেপাতা গতকাল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। রোজার এক সপ্তাহ আগে এই দামেই বিক্রি হয়েছিল ধনেপাতা। আর রোজা শুরুর আগে ও পরের দুই দিন ধনেপাতা বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। দাম কমেছে টমেটোরও। গতকাল এই সবজির প্রতি কেজি দর ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আর রোজার আগের দুই দিন দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

বাড়তি দামের দিক থেকে সব সবজিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল লেবুর। মানভেদে প্রতি হালিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া লেবু রোজার আগে ও পরের দুই দিন বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। গতকাল মানভেদে মাঝারি আকারের লেবুর হালি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে আগের ২৫ থেকে ৩০ টাকায় ফিরে গেছে।

রাজধানীর তিনটি কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বেগুন, শসা ও পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তবে লেবু ও ধনেপাতার সরবরাহ আগের চেয়ে একটু কম।

চিনি, ছোলা ও বেসনের দাম কমেছে

ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হচ্ছে, চিনি, ছোলা ও বেসনের দাম কিছুটা কমেছে। খোলা চিনির দাম কেজিতে ৪ টাকা কমে গতকাল ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে কল্যাণপুরের নতুন বাজার ও কারওয়ান বাজারে। একইভাবে ছোলার দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে এখন ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারি তৈরির উপকরণ বেসন (বুটের ডালের তৈরি) গতকাল বিক্রি হয়েছিল ১১০ টাকা কেজি। রোজার শুরুর আগে দাম ছিল ১২০ টাকা।

এ ছাড়া চায়না রসুন ১১০ টাকা ও আদা ৯০ টাকা কেজি দরে গতকাল বিক্রি হয়েছে। মোটা ও চিকন চালের দামে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও নিম্নবিত্তের প্রয়োজনের তালিকার শীর্ষে থাকা বিআর-২৮ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমে ৫০ টাকা হয়েছে।

কল্যাণপুরের নতুন বাজারের মুদিদোকান হাবিব জেনারেল স্টোরের মালিক আহসান হাবিব গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়াতে পাইকারি পর্যায়েই দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন পাইকারিতেও দাম কমছে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত নতুন দামের ভোজ্যতেল বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এখনো বেশির ভাগ দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কিছু দোকানে প্যাকেটজাত (পলিথিনে) এক লিটারের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। দাম ১৬০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দামের মধ্যে শুধু পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। দাম ৭৬০ টাকা।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট বাজার ও কল্যাণপুরের নতুন বাজারে গতকাল গরুর মাংসের কেজি ছিল ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা। যদিও রোজার শুরুর আগের দিন এই দুই বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয় ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি। রোজার এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকায়।

কল্যাণপুরের নতুন বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ১২০-১৩০ কেজি গোশত হবে সাধারণত এমন আকারের গরু তাঁরা গাবতলী পশুর হাট থেকে কেনেন। ওই পরিমাণ মাংস হয় এমন গরুর দাম মাসখানেক আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮২ হাজার টাকা। রোজার ঠিক আগে দাম পড়েছিল ৯২ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। এখন আবার দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, শবে বরাতের পর থেকে রোজা শুরুর দুই দিন পর পর্যন্ত ৭০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করেছেন। গতকাল বিক্রি করেন ৬৮০ টাকা।

গরুর মাংসের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি, সোনালিকা (কক) মুরগি ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমেছে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। রোজা শুরুর এক দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এ ছাড়া ৩০০-৩২০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া সোনালিকা মুরগি গতকাল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর হালিতে ১ থেকে ২ টাকা কমে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি গতকাল হয়েছে ৩৪ টাকায়।

গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের দামে বারবার ওঠানামা প্রমাণ করে ব্যবসায়ীরা অন্যায় সুযোগ নিচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, সঠিক তদারকির অভাব আছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোও তৎপর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। প্রথম আলোর নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *