ঘরে ঘরে গ্যাস বিড়ম্বনায় জনগন ক্ষুব্ধ

কাজী বিপ্লব হাসান: মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের সমস্যা এখন প্রতি ঘরে ঘরে। বিশেষ করে গত ৩ মাস যাবৎ এ সমস্যা চরমে পৌচেছে। ভোর ৬ টার দিকেই গ্যাস চাপ কমতে কমতে চলে যায়। সন্ধ্যার পর কিছুটা গ্যাস চাপ থাকলেও তাতে রান্না সম্ভব হয়না। রাত ৯ টা থেকে ১০ টার দিকে গ্যাস আসে। কোন কোন দিন গ্যাস দিনে-রাতে একই অবস্থায় থাকে। সংযোগ চাপ আর বাড়েই না। এদিকে গ্যাস বিলের মূল্যায়ন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০০৯ সালে দ্বিমুখী গ্যাস চুলার বিল ছিল ৪০০ টাকা। এর পর বেড়ে হল ৪৫০ টাকা। তারপর ২০১৫ সালে ৬৫০ টাকা হলো। ২০১৭ সালে হলো ৮০০ টাকা। করোনার মধ্যে ২০২০ সালে সেই বিল বেড়ে ৯৭৫ টাকায় গিয়ে ঠেকল। এখন ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে আবার ১০৮০ টাকা করে দিতে হচ্ছে গ্যাস বিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দাম ক্রমন্বয়ে বেড়েই চলেছে। আর গ্যাসের বিড়ম্বনাও বাড়ছে একই ধাপে। গ্যাসের এই সংযোগ সমস্যা নিয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই। মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় একটি পত্রিকা সহ জাতীয় পত্রিকায়ও মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সমস্যা নিয়ে লেখা হয়েছে।

কিন্তু এতেও গ্যাস কর্তৃপক্ষের অথবা জেলা প্রশাসনের কোনরূপ পদক্ষেপ পাওয়া যাচ্ছে না। ইদানিং পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দু’জনই সাধারনত চাকরিজীবি হয়ে থাকেন। দিনে অফিসিয়ালী কাজ করে রাতে তারা একটু বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে। অথচ গ্যাসের সমস্যার কারনে চাকরীজিবি মহিলারা রাতে সেই বিশ্রামটুকু পর্যন্ত ঠিকমতো করতে পারে না। কারন রাত ১০ টার পরে যদি রান্নাবাড়াই করতে হয়। তাহলে খাবার খাবে কখন! আর ঘুমাবে কখন? পরদিন সকালে আবার কয়টায় ঘুম থেকে উঠবে সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। কারন ভোর ৬ টার দিকে গ্যাস চলে যায়া। মুন্সীগঞ্জের এই গ্যাস সমস্যা শুধু ৩-৪ পাড়ার কথা উল্লেখ করলে চলবে না। কারন পুরো মুন্সীগঞ্জের এলাকা জুড়েই গ্যাস সংযোগের একই অবস্থা। তাই কোনো একক মহিলার নাম উল্লেখ না করে সবার কাছ থেকে গ্যাসের সমস্যাগুলো সম্পর্কে জেনেই তা উল্লেখ করেছি। গ্যাসের সমস্যার কারন জানতে জেলা তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক মেজবাহ্ উদ্দীন এর কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তার সাথে সাক্ষাতে তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে গ্যাস ঠিকমত সাপ্লাই দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ তাই গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কবে নাগাদ মুন্সীগঞ্জবাসীর এ সমস্যার সমাধান হতে পারে তার কোনো সদুত্তর তিনি দেন নি। বললেন গ্যাসের চাপ না বাড়লে এটা ঠিক করা যাবে না। কিন্তু এভাবেই কি গ্যাস সমস্যা নিয়ে এলাকার জনগন বিড়ম্বনার মধ্যে থাকবে? বিশেষ করে এলাকার মহিলার খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে যাচ্ছে গ্যাস কর্তৃপক্ষের আচরনে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ হতে জানানো হয়, মুন্সীগঞ্জের আবাসিক এলাকায় ১৩,৯৮৭ টি গ্যাস লাইন রয়েছে। এছাড়া বানিজ্যিক লাইন ২৫টি ও ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল লাইন রয়েছে ২২ টি। এসব লাইনে মাসে ৭১ লাখ ঘনমিটার গ্যাস এর চাহিদা থাকলেও তার অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই যেখানে গ্যাসের চাপ থাকা দরকার ১০ পি এস আই জি, সেখানে ৩ পি এস আই জি পাওয়া যাচ্ছে। আর এ চাপ না থাকায় বাড়িঘর ও বানিজ্যিক এলাকার গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছে না নিয়মিত। যেকোনো কিছুরই সমস্যা হয় আবার সেটার সমাধানের ও একটি পথ বের করা হয়। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাসের এ সমস্যার সমাধানের কোন পথ বের করছে না। বরং তারা নিরবেই থাকছে। তাই এই ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জবাসীর সরকারে কাছে আবেদন, জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগনেরই সেবক হয়ে থাকে। অতএব, মুন্সীগঞ্জবাসীর অনুরোধ এই গ্যাস সমস্যার অচিরেই যেন একটি সমাধান করে দেন সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *