চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী ও আনারস প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে

চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী ও আনারস প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আটজন আহত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগসহ নৌকা ও আনারস প্রতীকের কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলাও হয়েছে। শুক্রবার রাতে একই ইউনিয়নে দু-দফা এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে আরো কয়েকজন। আহতদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার রেশ ধরে অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে নির্বাচনী অফিসে। ভাংচুর করা হয়েছে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস।

আনারস প্রতীকে আওয়ামী রীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান টিপু বলেন, ‘পাশের এলাকার লোকজন প্রায় দিনই নৌকার পক্ষ নিয়ে তিতুদহ ইউপির নির্বাচনী এলাকায় এসে আমার কর্মীদের হুমকি-ধামকি দেয়। রাতেও ওই বহিরাগত লোকজন উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে আমার গিরিশনগর ও তিতুদহ দক্ষিণপাড়ার দুটি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালায়। এসময় আমার কর্মী তছলিম উদ্দীনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ভাঙচুর করা হয় মাহবুব রিপনের মোটরসাইকেলটি। জখম করা হয় রিপনকেও। এছাড়া ওই হামলায় আহত হয় মিঠু ও আব্দুল লতিফ।

এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শুকুর আলী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছিলাম। আমাদের বহরের পিছনে এসে আনারস প্রতীকের লোকজন নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এসময় তারা আমাদের মাইক্রোবাসে হামলা চালায়। তিতুদহ বাজার ও গিরিশনগরের ৩টি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় পুড়িয়ে দেয় আমার নির্বাচনী অফিসে তৈরী করে রাখা নৌকাও। তাছাড়া আমার কর্মীদের উপরও চালায় হামলা তারা। যে হামলায় আমার পক্ষের হাসান, মানিক, ওমর ফারুক, শাহিন ও রায়হান গুরুতর আহত হয়েছে।’

আহতরা হলেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শুকুর আলীর কর্মী তিতুদহ মাঝেরপাড়ার রাজ্জাক হোসেনের ছেলে হাসান আলী (১৮), একই এলাকার দক্ষিণপাড়ার মৃত রহিম বিশ্বাসের ছেলে মানিক (৩৫), মাঝেরপাড়ার বজলুর ছেলে শাহিন (২৫) ও বড়শলুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মাইক্র চালক মানিক (৩৫) এবং স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান টিপু সুলতানের সর্মথক একই ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি তসলিম উদ্দীন (২২), একই এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে মিঠু (২২) ও শুকুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুল লতিফ (২৫)।

এদিকে, ঘটনার খবরে পেয়ে তিতুদহ ক্যাম্প ও দর্শনা থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কর্মী-সর্মথকেরা ছত্রভঙ্গ হয়। পরবর্তী কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের একাধিক টিমকে তিতুদহের বিভিন্ন স্পটে টহল দিতে দেখা যায়।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) সাইদ হাসান। তিনি বলেন, ‘রাত ৯টার পরে তিতুহদ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘষের্র বিষয়ে জানতে পারি। এর পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে দুই গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।’

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুল কবির বলেন, ‘তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে নৌকা ও আনারস প্রতীকের কর্মী-সর্মথকদের মোট আটজন আহত হয়েছেন। ঘটনা জানার পরেই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইউনিয়নজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *