ছুটির দিনে লোকারণ্য বাণিজ্য মেলা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    মাত্র তিন দিন পরই শেষ হচ্ছে এবারের বাণিজ্য মেলা। শেষ প্রান্তে আসায় ও ছুটির দিন হওয়ায় অন্য দিনের তুলনায় আজ শনিবার মেলায় ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। হাজারো মানুষের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার, যা গত ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। বিধিনিষেধের মধ্যেও পূর্বাচলে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানোর কথা জানায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। কিন্তু বাস্তবে বাণিজ্যমেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি দর্শনার্থীদের। মেলায় প্রবেশের সময় স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ি দেখা গেলেও ভেতরে তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার রূপগঞ্জে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে

সরেজমিন দেখা যায়, মেলায় প্রবেশের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি অনেককে। আবার অনেকের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি।

মেলার প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় মাস্ক ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রবেশর সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে। যন্ত্র দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে মেলায় প্রবেশ করানো হচ্ছে। মেলায় মাইকের মাধ্যমে মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে বার বার ঘোষণা করা হচ্ছে। কড়াকড়ির কারণে যাদের মাস্ক নেই তারা বাইরে থেকে মাস্ক কিনে গেট পার হলেও অনেকে ভেতরে ঢুকে খুলে রাখছেন মাস্ক। কিছু দর্শনার্থী সচেতন থাকলেও অধিকাংশ দর্শনার্থীকে মাস্ক খুলে মেলায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

মেলায় বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নের কর্মীরা মাস্ক পরিধান করলেও কাউকে থুতুনিতে মাস্ক নামিয়ে রাখতে দেখা গেছে। ছুটির দিন হওয়ায় অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানানো কঠিন হয়ে পড়েছে মেলা কর্তৃপক্ষের।

স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাড্ডা থেকে মেলায় এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। মেয়ে ও স্ত্রীর মুখে মাস্ক থাকলেও তার মুখে ছিল না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরে থাকলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাছাড়া মাস্ক পরলেও করোনা হচ্ছে, না পরলেও হচ্ছে। তাই মাস্ক খুলে পকেটে রেখেছি।’

মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মেলায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যের পাশাপাশি স্কাউট সদস্য ও ইপিবির নিজস্ব স্টাফ ও সেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। দর্শনার্থীদের তারা নানাভাবে বুঝিয়ে মাস্ক পরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবুও দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে মেলার শেষ দিকে এসে বিক্রি বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই কিছু না কিছু কিনছেন। ফলে কেনাকাটাও হচ্ছে প্রচুর। মেলার বাকি কদিন ভালো বেচাকেনা হবে বলে আশা তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *