জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে

 জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে-আইপিসিসি

মুহাম্মদ নূরে আলম: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ৬ ঋতুর বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য ও রূপ হারাচ্ছে। শীতকালে তীব্র শীত, গরমে তীব্র গরম আর ভরা বর্ষার সময় কোনো বৃষ্টির দেখা নাই আবার হঠাৎ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এ যেন কমন চিত্র হয়ে দাঁড়িছে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়। বাংলাদেশে আষাঢ় শেষে শ্রাবণ মাস শুরুর ১ সপ্তাহ হলো কিন্তু ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। বিগত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া যেন তীব্র উত্তাপ চড়াচ্ছে। ফলে ভরা বর্ষাকালেও বাংলাদেশের মানুষকে ভ্যাপসা গরমের যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে। এছাড়াও দেশের উত্তরবঙ্গের অনেক কৃষি জমির মাটি ফেঁটে চৌচির পানির অভাবে ব্যহত হচ্ছে আমনসহ অন্যান্য কৃষি ফসলের। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, শীতকালে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে সেচের পানি না পাওয়াতে ধানসহ শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার বর্ষার মৌসুমে হঠাৎ বন্যায় জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। ব্যর্থ হওয়া মানে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। কারণ জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের বার্ষিক দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ কমতে পাবে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। জলবায়ুর প্রভাব প্রশমনের ওপর জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) বৈশ্বিক উষ্ণায়নবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেয়া হয়েছে। আইপিসিসির ওয়ার্কিং গ্রুপ-২ এআর৬ এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কেবল তাপমাত্রার পারদই চর চর করে বাড়বে না, বর্ষাও হবে দীর্ঘমেয়াদি, বাড়বে খরা। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়ার ৪ কোটি মানুষ জলবায়ুজনিত উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

জলবায়ু ও বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটেছে। এর প্রভাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণারত বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন যে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার হবে। চলতি বছর দফায় দফায় বন্যা, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত, অতিবৃষ্টি, নজিরবিহীন জোয়ারে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এবং গত কয়েক বছরে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমে বাড়ছে। এর জেরে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় বাড়ছে আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের আঘাত। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় উদ্বেগের কারণ যে সাগরপৃষ্ঠের চেয়ে পাঁচ মিটারের কম উচ্চতায় রয়েছে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা। লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের ৪ কোটি মানুষ জলবায়ুজনিত উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। এরই মধ্যে এখানকার শহরগুলোতে ধারণ ক্ষমতার বেশি মানুষ বাস করছে। এতে তারা এমনিতেই খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে; পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আন্তসীমান্ত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে পারে। রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালানোয় তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আবার বন্যাকবলিত হওয়ায় আশ্রয়শিবিরগুলো ছেড়ে তারা অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে খাদ্য ও পানি নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়বে, বাস্তুচ্যুত হবে মানুষ। কিন্তু জনগণের যে অংশ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে পারবে না, তারা জীবন-হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে।বছরের বন্যা-ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ পরিস্থিতি তাদের কথার সত্যতাই প্রমাণ করে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে যে পুঞ্জিভূত মেঘ বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা সেটা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছে। এজন্য বাংলাদেশে বর্ষাকালেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। আবার গত এক দশক ধরেই আবহাওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে ঋতু পরিক্রমায় এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে গত সাত দিনের মতো রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া ও সিলেটসহ কয়েকটি জেলার ওপর তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যদি টানা তিন দিন অন্তত ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করে, সেটাকেই তাপপ্রবাহ বলে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) বৈশ্বিক উষ্ণায়নবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ চরম উষ্ণতা ও আদ্রতা ঝুঁকি, সমুদ্র পানির উচ্চতা বাড়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে এবং এর কারণে লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। আইপিসিসি’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ আভাস দেয়া হয়েছে। যেসব প্রকল্পে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অব্যাহত রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করবে এবং এর ফলে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক অভিঘাতের সম্মুখীন হতে পারে, যা প্রবৃদ্ধিকে থমকে দেবে।

প্রতিবেদনটির প্রধান লেখকদের অন্যতম সমন্বয়কারী ড. রওশন আর বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, এ প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র পানির স্তর বাড়ার কারণে শতাব্দীর মাঝামাঝি বা শেষের দিকে বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ কমতে পাবে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অতি-দারিদ্র্য, আয় বৈষম্য, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতি এবং নি¤œ অভিযোজন সক্ষমতাসহ দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো আরও কঠিন হয়ে পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধান উৎপাদন ১২ থেকে ১৭ শতাংশ ও গম উৎপাদন ১২ থেকে ৬১ শতাংশ কমতে পারে।

প্রতিবেদনটির অন্যতম প্রধান লেখক মো. আরফানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব মোকাবিলা করছে, আগামী বছরগুলোতে তার চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। এমনটা হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল যে, আমাদের অধিকাংশ অভিযোজন পদক্ষেপই ১ দশমিক ৫ ও ২ সে. উষ্ণতায় অকার্যকর হয়ে পড়বে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান নিঃসরণ পরিকল্পনার কারণে এ শতাব্দীতে সমুদ্রের পানির স্তর বাড়াবে। আর এর ফলে দেশের কিছু অংশের কৃষি জমির ৩১ থেকে ৪০ শতাংশ তলিয়ে যাবে। সমুদ্র পানির স্তর বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যা এড়াতে আগামী দশকে দেশের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ পরিকল্পনার পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ পানি সংকটে পড়বে। বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ পানি সংকটে রয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকায় ক্রমবর্ধমান বন্যার সৃষ্টি হবে। এছাড়া জলবায়ুর কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন, বাজার, অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, বাংলাদেশে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে এবং পণের দাম বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রপ্তানিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি হ্রাস ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য অভিযোজনের পন্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র রোদে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের কৃষিখাত। জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় আবাদি জমি এরইমধ্যে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যান্য বছর এ সময়ে জলমগ্ন জমিতে আমনের চারা বুনলেও এবারে বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি নেই। আমন চারার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যে কটা সবজি চাষ করেছেন সেগুলোও তীব্র গরমে নষ্ট হওয়ার পথে। সামনের ক’দিন বৃষ্টি না হলে অতিরিক্ত টাকা গুণে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে বলে জানান কৃষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগল বিভাগের শিক্ষক নাজমুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপ না হওয়ায় বৃষ্টির যে ঘনীভূত মেঘ সেটা আকাশে জমতে পারছে না। ফলে বৃষ্টি হচ্ছে না। নিম্নচাপ হলে সমুদ্রের পানি জলীয় বাষ্প আকারে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয় এবং মেঘ তৈরি করে। সেই মেঘ বৃষ্টির পানি আকারে নেমে আসে। যেহেতু নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে না। তাই মেঘ জমে বৃষ্টি নামছে না। উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় এখন শুধু গরম বাতাস ওপরে উঠছে। আকাশে যে মেঘ আছে সেটা শরতের মেঘ। বৃষ্টির মেঘ নেই।

বুয়েটের ছয় গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের বন্যার ওপর একটি গবেষণা করেছেন। এতে নেতৃত্ব দেন বুয়েটের অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ইতোমধ্যে বিশ্বে তাপমাত্রা ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। এ কারণে বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় যদি প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা যায় এবং এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেলে বন্যা কী পরিমাণ বাড়বে, সেটা নিয়ে তারা গবেষণা করেছেন। তিনি আরও জানান, গঙ্গা অববাহিকায় বন্যা ২৭ শতাংশ বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় তা বেড়ে যথাক্রমে ২৪ শতাংশ এবং মেঘনা অববাহিকায় ৩৮ শতাংশ বেশি হতে পারে। এই বেশি মানে-এবার যেমন ৪ থেকে ৭ বার হয়েছে ৩ মাসে, তখন হয়তো বন্যা লেগেই থাকবে।

২০২১ ও ২০২২ সালে বন্যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জেরে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। ২০১৯ সালে এক বছরেই বুলবুল এবং ফণী নামে দুটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ছিল তীব্র দাবদাহ। রেকর্ড শৈত্যপ্রবাহের ঘটনাও গতবছর ঘটেছে। ২০১৮ সালে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। ওই বছর আকস্মিক বন্যায় ভেসে যায় পূর্বাঞ্চল। ছিল বজ পাতের প্রকোপ এবং কালবৈশাখীর ছোবল। এছাড়া অস্বাভাবিক তাপ ও শৈত্যপ্রবাহ তো ছিলই। ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগরে। সিলেট অঞ্চলে চলতি বছরে হঠাৎ বন্যা। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার কারণে উত্তরাঞ্চলে একই বছর বন্যা হয়। ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানে। এর আগে ‘মহাসেন’, ‘আইলা’, ‘সিডর’ হয়ে গেল। ২০০৭ সালের পর মাত্র ১০ বছরে ৫-৭টি ঘূর্ণিঝড় হয়ে গেল। অথচ এর আগে ১৯৯৮ সালে এবং তার আগে ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড় হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এবার হঠাৎ বন্যা শেষ হতে না হতে দাবদাহে নাকাল দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভাবনার পুরোভাগে চলে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এখানকার জন্য বড় এক বাস্তবতা। তাই সম্ভাব্য বিপদ এমনভাবে  মোকাবিলা করতে হবে, যাতে মানবিক সংকট এড়ানো যায়।  দৈনিক সংগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *