জুতা কারখানার কারিগড়দের দিন ভালো কাটছে না

কাজী বিপ্লব হাসান: বর্তমান সময়ে দেশের প্রতিটি জিনিসের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে; তার প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ববিত্ত সহ সকল শ্রেনীর উপরই কম আর বেশি। ছোটখাট ব্যবসায়ীরাও এর আওতার মধ্যে আছে। এমনি একজন জুতা কারখানার কারিগড় এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। কেওয়ার লোহার পুলের এলাকতে একটি ছোট জুতার কারখানা দেখা গেল। কারখানার মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, একন এই ব্যবসায় কোনো লাভ দেখতাছি না। জুতা তৈরির কাঁচামাল ঠিকমতো পাওয়া যায় না। দামও বেশ চড়া আগের তুলনায়। তাই নিজের কারখানায় নিজেই জুতা তৈরি করি। এক কর্মচারি ছিল তারে বাদ দিয়ে দিছি। কেন বাদ দেয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুতা তৈরির কাঁচামাল সহ যাতায়াত ভাড়া বাদ দিলে মাসে আমার ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা থাকে। একজন কর্মচারীকে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া লাগব। তাইলে আমার হাতে কত টাকা থাকব। তাই নিজেই কারিগড়ের কাজ করে প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ জোড়া জুতা বানাইতে পারি। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় অল্প পরিসরে তৈরি সেই জুতা কারখানাটি। মালিক অনুপস্থিত থাকায় কারখানার কারিগড়দের সাথে কথা হলো। একজনের নাম মোহাম্মদ হোসেন ও অন্যজনের নাম মোহম্মদ শহীদ। তারা অনেক বছর যাবত এই কারখানায় কাজ করে আসছে। একজনকে দেখলাম চামড়া কেটে পায়ের মাপ অনুযায়ী ছোট করে তৈরি করছে। অপরজন মেশিন দ্বারা জুতার উপরের অংশের সাথে নিচের অংশটুকুর সেলাইয়ের মাধ্যমে জোড়া দিচ্ছে। জুতার কারিগড় মোঃ হোসেন বললেন, ১৫ বছর যাবত সে এই কারকানাতে কাজ করছে। বর্তমানে জুতা তৈরির কাঁচামাল সহজে পাওয়া যাচ্ছেনা। যা পাওয়া যায় তার দামও

আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই কারখানার মালিক নিরাশ হয়ে জুতা তৈরি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। তারা একদিনে কতটুকু কাজ করতে পারে জানতে চাইলে মো: হোসেন জানান, প্রতিদিন তারা দুই কারিগড় প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৪ জোড়া জুতা তৈরি করতে পারে। তবে কাঁচামালের অভাবে মাঝে মাঝে কাজ স্থগিত হয়ে যায়। তারা কত টাকা বেতন পায় তা জানতে চাইলে, বলে তাদের প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। তাও রিতিমত পাচ্ছিনা। গত ১০ বছর আগে যে মজুরি ছিল, এখন ও একই মজুরি পাচ্ছি। কিন্তু দিনে দিনে জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে এই টাকায় পুরো পরিবার নিয়ে ঠিকমতো চলে না। তাই ভাবছি অন্য কোনো কাজকে পেশা হিসেবে নিব কিনা। মোঃ হোসেন দুঃখ করে বলেন, সব জিনিসের দাম বাড়ে কিন্তু আমাদের মজুরির দাম আর বাড়েনা। বর্তমানে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির কার এই ধরনের ব্যবসায়ীদের জীবনযাপনের মান ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *