তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ ভুরুঙ্গামারীর জন সাধারন। ঘরে ঘরে জ্বরের আক্রমণ

এস এম নুরুল আমিন উপজেলা প্রতিনিধি ভুরুঙ্গামারীঃ সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। ঘরে ঘরে তীব্র জ্বরের আক্রমণ। ভুরুঙ্গামারীর তাপমাত্রা এক সপ্তাহ থেকে ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলা বাসীর জনজীবন। ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের এই উপজেলাটিতে প্রকৃতির শনির দশা যেন কাটছেই না। অকালে বন্যা হওয়ায় মৎস্য,কৃষি খাতে ক্ষতি ঘর বাড়ি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে উপজেলার দরিদ্র পীড়িত মানুষের অবস্থা এমনিতেই নাকাল, উপজেলাটির কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতির পর কৃষকেরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ঠিক তখনই প্রকৃতির নিষ্ঠুর অতি উচ্চ তাপমাত্রা যেন তাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না।দরিদ্র পীড়িত উত্তরের এই উপজেলাটি মূলত কৃষি নির্ভর, শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকেরা মাঠে, জেলেরা নদীতে, শ্রমজীবী মানুষ বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত থাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অত্যাধিক গরমে ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে সাধারণ মানুষের যেখানে টিকে থাকা দেয় সেখানে বয়স্ক ও শিশুরা পড়েছে আরও চরম বিপাকে। অতি গরমে ঘরে ঘরেতীব্র জ্বরের আক্রমন, শিশুদের দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি সহ নানা রোগ। উপজেলার ০৯ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফার্মেসি গুলোতে বেড়েছে জ্বরের এবং শিশুদের বিভিন্ন রোগের ওষুধ এর চাহিদা। সাধারণ জনগোষ্ঠীর যারা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি কিংবা ক্লিনিকে যেতে চায় না তারা সাধারণত ফার্মেসিগুলোতে গিয়ে নিজেদের শিশুদের সমস্যার কথা বলে ওষুধ নিচ্ছেন অহরহ। কখনো হঠাৎ বৃষ্টির যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়। এদিকে কুড়িগ্রামে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই,দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ ১৫ ই জুলাই দেশের আবহওয়া অধিদপ্তরের তথ্য সুত্রে জানাযায় (সকাল ৮টার ৭১টিভির লাইফ সম্পচার) আগামী ৩/৪ দিন এ তীব্র তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে। রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোঃ সবুর হোসেন জানান, ১৪ ই জুলাই বৃহস্পতিবার সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সন্ধ্যা ছয়টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস । গত ৮ জুলাই থেকে ৭ দিনে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫.৬৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসার ডাঃ মোঃ মঞ্জুর-এ-মুরশেদ জানান, সাধারণত অত্যধিক গরমে জনসাধারণের তীব্র জ্বর, শিশু ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তবে এখন পর্যন্ত এর সংখ্যাটা স্বাভাবিক রয়েছে, ডায়রিয়ার প্রকোপ বা শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া-এটা এখন পর্যন্ত হয়নি, তবে দাবদাহ ক্রমাগত যদি এভাবে চলতে থাকে সেক্ষেত্রে তেমনটা হলেও হতে পারে তার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। জেলা সিভিল সার্জন এ কর্মকর্তা অপ্রয়োজনে রোদে যাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ঘন ঘন স্যালাইন ও ডাবের পানি এবং বিশুদ্ধ পান করা ও জ্বরের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করার জন্য পরামর্শ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *