নিজেকে আহ্বায়ক ঘোষণা করে তোপের মুখে এমপি আদেল তপন দাস

নীলফামারী প্রতিনিধি: নিজেই নিজেকে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ঘোষণা করে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে বর্ধিত সভা ছেড়ে পালালেন এমপি আলহাজ্ব আহসান আদেলুর রহমান আদেল। বুধবার (১৩ জুলাই) বেলা ৩ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের এ ঘটনায় জাপা’র দুইপক্ষের কর্মীসমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতিও হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, শহরের পৌরসভা সড়কের আদিবা কনভেনশন সেন্টারে সৈয়দপুর উপজেলা জাপা’র বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কনভেনার ছিলেন সাবেক এমপি ও নীলফামারী জেলা জাপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এন কে আলম চৌধুরী। অতিথি ছিলেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আহসান আদেলুর রহমান আদেল। বেলা ২ টায় শুরু হয় সভার কার্যক্রম। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জাপা’র আহ্বায়ক শিল্পপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্তির সময় হঠাৎ করে সিদ্দিকুল আলম গ্রুপ আর এমপি আদেল গ্রুপের নেতাদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। কারণ এমপি আদেল নিজ গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ উপজেলার লোকজনসহ অপরিচিতদের সৈয়দপুর উপজেলার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঞ্চ থেকে নেমে কর্মীসমর্থকদের মাঝে এসে দাঁড়ান সিদ্দিকুল আলম। এসময় এমপি’র লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে সরে যেতে বলেন। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অধিকাংশ নেতাকর্মী দাবী জানায় সিদ্দিকুল আলমকেই আহবায়ক করে অন্য কাউকে সদস্য সচিব করার। আর এমপি আদেলকে সৈয়দপুর উপজেলা বা পৌর কোন কমিটিতেই না থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু উপস্থিতদের কথা না শুনে এবং কনভেনার এন কে আলম চৌধুরী কে উপেক্ষা করেই এমপি আদেল নিজেই নিজেকে আহবায়ক এবং সিদ্দিকুল আলমকে সদস্য সচিব ঘোষণা দেন। ফলে মূহুর্তেই তুমুল হৈ হুল্লর শুরু হয়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সিংহভাগ নেতাকর্মী সিদ্দিকুল আলমের সমর্থক হওয়ায় এবং আদেল তাদের মতামতের গুরুত্ব না দেয়ায় তারা মারমুখী হয়ে উঠে এবং এমপিকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। তাদের তোপের মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের সহায়তা নিয়ে সভাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন এমপি আদেল। প্রথমে সৈয়দপুর সড়ক ও জনপদের রেস্ট হাউজে অবস্থান করেন। পরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তাকে মোবাইলে বার বার সভাস্থলে আসার জন্য আহ্বান জানালেও তিনি আর আসেননি। ফলে সভা অসম্পন্ন রেখেই সিদ্দিকুল আলমও চলে যান। এতে সভাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং খবরটি চাউর হলে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে এমপি আদেল ও সিদ্দিকুল আলমের সাথে তাদের মন্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কেউই মোবাইল রিসিভ করেননি। এমনকি স্থানীয় অন্য নেতাকর্মীরাও এবিষয়ে মুখ খুলছেন না। তবে উপস্থিতদের অনেকেই পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন এবং এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য এমপি আদেলকেই দায়ী করছেন। জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল দিদার দীপু বলেন, এমপি আদেল কখনই রাজনীতি করেননি। তাই তিনি দলের কোন নিয়ম নীতি জানেনও না, মানেনও না। গায়ের জোরেই সব করতে চান। একেতো উড়ে এসে জুড়ে বসে এমপি হয়েছেন। তারওপর জবরদস্তি করে দলের পদ পদবী নিতে তৎপর। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হয়েও উপজেলা সভাপতির পদেও থাকতে সাংগঠনিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করছেন। তার এহেন বালখেল্যপনার কারণে সৈয়দপুর জাপা’র ইতিহাসে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বর্ধিত সভার কনভেনার এন কে আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় পার্টির একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখন সবাই এই দলের নেতা হতে চায়। অনেকে নিয়ম মানতে চায়না। তাই এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে এটা বড় কোন ব্যাপার নয়। এমন ছোট খাট কান্ড ঘটতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *