পাকিস্তানে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি কোনো প্রধানমন্ত্রীই

অনলাইনডেস্ক: পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর কেটে গেল ৭৫টি বছর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ৭৫ বছরেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে পাঁচ বছর টেকেননি কোনো একজনও। এ সময়ের মধ্যে দেশটির শাসন ক্ষমতায় বসেছেন ২৯ জন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাদের কেউই শেষ করতে পারেননি মেয়াদ।

ব্যতিক্রম হলেন না সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। রোববার মধ্যরাতে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হলেন তিনি। বহু নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে সেদিন মধ্যরাতের অনাস্থা ভোটে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে তাকে বিদায় নিতে হলো পাকিস্তানের মসনদ থেকে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে তিনিই প্রথম, যাঁকে অনাস্থা ভোটে হেরে সময়ের আগে গদি ছাড়তে হলো। এর আগে আরো দু’‌জন প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েছিলেন। তবে ভোট হওয়ার আগেই ইস্তফা দেন তারা। বাকিদের গদি গিয়েছে, হয় প্রেসিডেন্টের সাথে বিরোধ, নয়তো সেনাবাহিনীর প্রভাবে। ১৮ বার প্রধানমন্ত্রীদের অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে বেনজির ভুট্টো বোমা হামলায় তার মেয়াদকালে নিহত হন।

পাকিস্তানে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নওয়াজ শরিফ। সেদেশে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার দীর্ঘতম মেয়াদ হলো চার বছর দু’ ‌মাস।

• লিয়াকত আলি খান :‌ প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেন। ১৯৫১ সালে রাজনৈতিক সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হন।

• খাজা নাজিমুদ্দিন :‌ ১৯৫৩ সালের ১৭ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। লাহোর অশান্ত হয়। সেই কারণ দেখিয়ে গদি ছাড়ার নির্দেশ দেন পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল মালিক গোলাম।

• মোহম্মদ আলী বোগরা :‌ মোট দু’বছর ১১৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গভর্নর-জেনারেল ইসকান্দার মির্জার নির্দেশে গদি ছাড়তে বাধ্য হন।

• চৌধুরী মোহাম্মদ আলী :‌ ১৯৫৫ সালে ক্ষমতায় বসেন। এক বছরের কিছু বেশি সময় ছিলেন। দলের মধ্যে মতবিরোধ হয়। দলবিরোধী কাজকর্মের জন্য তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়।

• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী :‌ মাত্র এক বছর ৩৫ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। সেনাবাহিনীর সাথে বিরোধ। গভর্নর জেনারেল ইসকান্দারের চাপে পড়ে পদত্যাগ।

• ইবরাহীম ইসমাইল চুন্দিরগার :‌ ১৯৫৭ সালে ক্ষমতায় বসেন। মাত্র দু’‌ মাস ক্ষমতায় ছিলেন। অনাস্থা ভোটের মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন।

• মালিক ফিরোজ খান নুন :‌ ১৯৫৭ সালে ক্ষমতায়। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত। পাকিস্তানে জারি হয় সামরিক আইন।

• নুরুল আমিন :‌ মাত্র ১৩ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি আয়ুব খানের সাথে মনোমালিন্য হয়। তার জেরে পদত্যাগ। পাকিস্তানের শেষ বাঙালি নেতা তিনি।

• জুলফিকার আলী ভুট্টো :‌ ১৯৭৩ সালে ক্ষমতায় আসেন। তিন বছর ১১ মাস ক্ষমতায় ছিলেন। জেনারেল মোহাম্মদ জিয়া-উল-হকের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী তাকে গদিচ্যুত করে।

• মোহাম্মদ খান জুনেজো :‌ ১৯৮৫ সালে ক্ষমতায় আসেন। সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পর সেনাপ্রধান গদিচ্যুত করেন।

• বেনজির ভুট্টো :‌ জুলফিকারের কন্যা ১৯৮৮ সালে ক্ষমতায় বসেন। পাকিস্তানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে রাষ্ট্রপতি সরকার ফেলে দেন। ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট।

• মিয়া মোহাম্মদ নওয়াজ শরিফ :‌ ১৯৯০ সালের ৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী হন। ২ বছর সাত মাস পর বেনজিরের মতো অভিযোগ ওঠে। প্রেসিডেন্ট তাকে সরিয়ে দেন।

• বেনজির ভুট্টো :‌ ১৯৯৩ সালের ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসেন বেনজির। তিন বছর পর ফের একই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত হন।

• নওয়াজ শরিফ :‌ আবার ক্ষমতায় আসেন। ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আবারো সামরিক অভ্যুত্থান। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা হারান।

• মীর জাফরুল্লাহ খান জামিলি :‌ এর পর ক্ষমতায় আসেন জামিলি। সেনাপ্রধান পারভেজ মুশারফের সঙ্গে মতবিরোধ। ২০০৪ সালের জুনে ইস্তফা দেন।

• ইউসুফ রাজা গিলানি :‌ ২০০৮ সালের ২৫ মার্চ নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী। আদালত অযোগ্য ঘোষণা করে। ২০১২ সালে ক্ষমতাচ্যুত।

• নওয়াজ শরিফ :‌ ২০১৩ সালের জুনে নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে বেআইনি সম্পত্তি রাখার দায়ে সুপ্রিম কোর্ট তাকে বরখাস্ত করে।

• ইমরান খান:‌ ২০১৮ সালে নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত।

সূত্র : আজকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *