প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন ও সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড সহ ৭ দফা দাবি ঘোষণা করে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ

সংবাদ সম্মেলনে,প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন ও সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড সহ ৭ দফা দাবি ঘোষণা করে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ

নাজমুল হাসান: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ এর উদ্যোগে ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ রোজ শনিবার, সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমন্বয়ক মোঃ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালন সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুখ্য সমন্বয়ক জনাব ওয়ারেছ আলী, এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সম্যক জনাব লুৎফর রহমান, সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সমন্বয়ক জনাব ইব্রাহিম খলিল ।সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, জনাব মোঃ নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন, সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী সংহতি পরিষদ, জনাব মোঃআনোয়ারুল ইসলাম তোতা, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, জনাব মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সভাপতি, তৃতীয় শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতি, জনাব মোঃ আনিছুর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ, জনাব শাহ্ মোঃ মামুন, সভাপতি, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন, জনাব

মোঃ জিয়াউল হক, সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদ, জনাব খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, সমন্বয়ক, জনাব মোঃ গাজিউল হক চৌধুরী, সমন্বয়ক, জনাব মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউল, সমন্বয়ক, জনাব আসমা, সমন্বয়ক, জনাব মুসা আহম্মেদ, সমন্বয়ক, মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, মোজহারুল ইসলাম, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল হালিম, জাকির হোসেন, মাহবুব তালুকদার, তারিকুল ইসলাম, আসফাকুল আশেকীন সহ কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মূখ্য সমন্বয়কসহ সমন্বয়কবৃন্দ বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী দাবী আদায় ঐক্য পরিষদের নিম্নবর্ণিত ৭দফা দাবী বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রজাতন্ত্রের সকল স্তরের কর্মচারীদের প্রতিনিধিগণ সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মচারীদের মনের পৃঞ্জিভূত অসন্তোষ ও বিরাজিত ক্ষোভ নিরসনসহ ৭ দফা দাবী দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। ৭ দফা দাবী সহ নিম্নরূপঃ(১)পে-কমিশন গঠন পূর্বক ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে অন্তবর্তীকালীন কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করতে হবে।

(২)১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পে-কমিশনে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখতে হবে। (৩)সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তর ও শ্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পদনাম পরিবর্তনসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করণ এবং এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রনয়ণ করতে হবে।(৪)টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল সহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহল, বিদ্যমান গ্রাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।(৫)  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন নিয়োগ বিধি-২০১৯ এর ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ। (৬)আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল পূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তর করতে হবে। ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে।(৭)বাজারমূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় পূর্বক সকল ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে ও অধঃস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে অন্তভূক্ত করতে হবে।সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুখ্য সমন্বয় বলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় বৈষম্যে মেনে নেয়া যাবে না। ২০১৫ সালে প্রদত্ত ৮ম পে-স্কেল ইতমধ্যে ৭ বছর পূর্ণ করেছে। সব সময়ই সরকার কোন পে-স্কেল ৪ বছর পূর্ণ হলেই মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করে থাকে এখন পর্যন্ত তাও দিচ্ছে না। ৮ম পে-স্কেল ঘোষনার সময় স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের কথা ছিলো। তাও অদ্যাবধি বাস্তবায়ন হয়নি এবং বাজার প্রবৃদ্ধির সাথে সমন্বয় করে বেতনও বাড়ানো হয়নি। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৫%ই বহাল আছে। বর্তমান মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে কোন কর্মচারী ১০ দিনের বেশি চলতে পারে না। তাই পে-কমিশন গঠন পূর্বক ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ণ করার ও পে স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০% মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করার জোর দাবি জানান। ১৯৯৫ সালে সচিবালয়ে উচ্চমান সহকারী, প্রধান সহকারী, শাখা সহকারী ও বাজেট পরীক্ষকদের পদবী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাঁট লিপিকারদের পদবী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা করে সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাহিরে কর্মচারীদের মধ্যে পদবী ও বেতন বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পদবী পরিবর্তন করার বিষয়টি বৈষম্য নিরসণ না করে পূনরায় বৈষম্যর কঠিন বেড়াজাল তৈরি করা হয়েছে যা কোন ভাবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাশিত নয়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কর্মচারীদের মধ্যে পূনরায় পদবী বৈষম্য বেড়াজাল সৃষ্টি । প্রিয় সাংবাদিক ভাই বোনেরা,১১ থেকে ২০ গ্রেডের এই বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ কর্মচারীদের বাদ দিয়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়। এসকল দাবী বাস্তবায়নে ঐক্য পরিষদ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে তাঁর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, সাংবাদিক সম্মেলন, মানব বন্ধনসহ বিভিন্নভাবে আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। কয়েকজন সংসদ সদস্য কর্তৃক আমাদের দাবির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য মহান জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ করেছি, বিভাগীয় সমাবেশ শেষে গত ০৩ জুন ঢাকাতে মহাসমাবেশ করার ঘোষনা ছিল কিন্তু এরই মধ্যে জাতির বহু কাঙ্খিত পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের ঘোষনা আসায় আমরা বৃহত্তর স্বার্থে ৩ জুনের কর্মসূচী স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু ওরা জুনের পর গত তিন মাস গত হলেও ৯ম পে কমিশন গঠন, বেতন ভাতা বাড়ানোসহ পদবী বৈষম্য দূরীকরণের বিষয় সরকারের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *