ফলন কম হওয়াতে পাটে লোকসান হচ্ছে কৃষকদের

কাজী বিপ্লব হাসান: এক সময়ের সোনালী আঁশের দেশ ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু এখন আর সেই সোনালী আঁশের মুল্য পাওয়া যাচ্ছে না বাংলাদেশে। প্লাস্টিক আর পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটের কদর কমে যাচ্ছে। পাটজাত দ্রব্য এখন আর কেউ খুব একটা ব্যবহার করছে না। অথচ একটা সময় ছিল যখন পাটের তৈরি বস্তা, রশি, কারর্পেট হতে শুরু করে অনেক পন্য তৈরি হতো এদেশের কুটিরশিল্পের মাধ্যমে। এতে কৃষকরাও উৎসাহ করে বেশি করে পাট লাগাতো আর বেশি ফলনের দ্বারা কুটির শিল্পের তৈরি নানা পাটজাতপন্য এদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। এক সময় বিশ্বের শতকরা ৯৫% পাট এদেশে উৎপন্ন হতো। এখন তা কমে গিয়ে ৬৫% এ এসে ঠেকেছে। তারপরও কৃষকরা উৎসাহ ভরে পাট লাগাচ্ছে কৃষকরা। দেশিয় এই পন্যটাকে উজ্জীবিত রাখার জন্য। এবার পাট চাষের প্রসঙ্গে বলি। আমাদের মুন্সীগঞ্জ জেলা চারদিকে পানি বেষ্টিত হওয়ায় এখানে অনেক পাট উৎপন্ন হতো। জেলার ৬টি উপজেলাতে পাট চাষ করা হয়ে থাকে।

এ বছরও কৃষকরা পাটের চাষ করেছেন। এখন জমির পাট তুলে আঁশ বের করে বিক্রির জন্য তৈরি করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, এবছর মুন্সিগঞ্জ জেলায় ২,৯০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদরে ৪৭৫ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ৭৪৩ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮২৫ হেক্টর, শ্রীনগরে ২০৩ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৪৮৫ হেক্টর এবং গজারিয়াতে ১৭৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। চৈত্র মাসে পাটের চারা রোপন করে শ্রাবনের শেষের দিকে পাট তোলা হয়। উপ-পরিচালক জানান, এবছর মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৫,৫৯৪ মেট্রিকটন পাট উৎপাদন হয়েছে। পাটের দাম কেমন পাচ্ছে চাষিরা ? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, মন প্রতি ২,২০০ টাকা করে সরকারি ভাবে নির্ধারন করা হয়েছে। তবে এ দামে কৃষকরা সন্তুষ্ট নন কারন তারা পাট চাষে লাভবান হতে পারছে না। এমনি একজন পাট চাষী চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন মিজির সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি বলেন, এবছর পাটের ফলন কম। আমি ৩০০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ শুরু করি। এবছর বর্ষার শুরুতে আগাম বন্যা হওয়ায় আমার অনেক পাটের চারা মইরা গেছে। তাই ফলন কম হইছে। দেখা গেলো, তিনি ও তার লোকজন ডোবা থেকে পাট তুলে পাটের আঁশ বের করছে। এ বছর পাটের দাম কেমন যাচ্ছে ? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দাম ভালোই পাইছি। ২,৭০০ টাকা মন পাট বেচতাছি। তবে ফলন কম হওয়াতে আমার এ টাকাতেও লোকসান হইতাছে। যেই জমিতে গত বছর আমি ৯০ থেকে ১০০ মন পাট পাইছি। এবার সেই জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মন পাট হইছে। তবে বলেন, লাভ পামু কেমনে ? এছাড়া পাটের চারার দাম বেশি, সারের দাম বেশি, শ্রমিকের মজুরি বেশি সব মিলাইয়া আমার এবার ৫০ হাজার টাকার লোকসান হইছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন উপ-পরিচালক বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জিনিসপত্রের দাম ও বেড়ে গেছে। তাছাড়া বর্ষার শুরুতেই এবার সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম বন্যা হওয়ায় এর প্রভাব মুন্সিগঞ্জেও পড়েছে। তাই কিছু কিছু পাটের চারা রোপনের পরেই মারা গেছে। তাই ফলন কম হওয়ায় পাট চাষিরা লাভবান হতে পারছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *