বজ্রযোগিনীতে নির্বাচনী সহিংসতায় ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাংচুর

মো. ফরহাদ, মুন্সীগঞ্জ:মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন উপ-নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অংশ হিসেবে গুহপাড়া শেখ বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও চশমা প্রতীক প্রার্থীর রামসিংয়ের পুরান বাড়িতেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত, হামলায় ঘরের গ্লাস ভাঙ্গার দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
ঘটনার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২৭ জুলাই বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বিজয় হওয়ার পর আওয়ামীলীগের লোকজন এ ঘটনা ঘটায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ৩টি মোটর সাইকেলে ৮/৯জন লোক এসে তাদের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ বিষয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যান। পুলিশ যাওয়ার ৩০ মিনিট পর দুর্বৃত্তরা আবার একটি মাইক্রোবাসে করে ৪জন ও পূর্বের লোকজন এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় দুর্বৃত্তরা গালিগালাজ ও পুলিশ আনার বিষয়ে খারাপ মন্তব্য করে চলে যান বলেও তারা জানান। ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে বাড়িতে অবস্থানরত বয়স্ক ও শিশুরা কিছু সময় স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২০ মিনিট পর তাদেরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনা হয়। তারা আরো বলেন, শান্তিপ্রিয় বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে দীর্ঘ ২৫ বছর তোতা মিয়া মুন্সী চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি থাকাকালীন সময়ে নির্বাচনের পরদিনই ঘোষণা করে দিতেন এলাকায় যেন কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। প্রত্যেকেই তার কথা মান্য করতেন এবং অতীতে নির্বাচন পরবর্তী এমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা প্রত্যক্ষ করিনি।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহিদুল্লাহ খানের ছেলে রতন খান (৩২), অভি (২২), আজিজুল শেখের ছেলে অপু (৩০), সিরাজুল ইসলাম হালদারের ছেলে কেছা মাসুম (৩৮), চুন্নু ভুঁইয়ার ছেলে কাউসার (৩০), হোসেন মোল্লার ছেলে মাকসুদুর রহমান মোল্লা (৩৩) ও নাজিমুদ্দিন লস্করের ছেলে সেন্টু লস্কর (৩৫) ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ৫নং সদস্য এডভোকেট আব্দুল হালিম জানান, তিনি চশমা প্রতীকের এজেন্ট থাকায় নৌকার প্রার্থীর লোকজন তাদের বাড়িতে এ হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও হাতিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ অমর দাস।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের ভোটেই আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন আমি বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের প্রত্যেকের চেয়ারম্যান। কেউ এই ইউনিয়নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান হিসেবে সেটি দেখার দায়িত্ব রয়েছে।
হাতিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ অমর দাস বলেন, আমি তিনটি ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছি। এ এলাকাগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে যে কোন দলেরই হোক না কেন। সেটি আমরা দেখবো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *