বালুচর টেটা যুদ্ধের ইতিহাস ৫০ বছরের বেশী সময়ের

তুষার আহাম্মেদ – আবারও অশান্ত  হয়ে উঠেছে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়ন। আধিপত্য বিস্তারকে  কেদ্র  করে ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে দুপুরে ফের সংঘর্ষর ঘটনা ঘটেছে । রোববার ৬ ফেব্রুয়ারী সকালে  সামেদ আলী ও হাসান আলী গ্রুপের মধ্যে থেমে থেমে চলছে  এ সংঘর্ষ । সংঘর্ষ ২ জন টেটাবিদ্ধসহ  ৫ জন আহত হয়েছে । এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে গত ১ মাসে ৫ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল এবং দুজন টেটাবিদ্ধসহ ১ মাস ৯জন টেটাবিদ্ধ এবং ২৫ টি বাড়ীঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,ফের সকালে বালুচর ইউনিয়নের সামেদ আলী ও হাসান আলী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সকাল থেকে বিকাল ৪ টা  পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় । এতে ২ জন টেটাবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়েছে ।  টেটাবিদ্ধ আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে এবং বাকী আহতরা  প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে । পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে ।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘২ জন টেটাবিদ্ধ হয়েছে তবে ঘটনাটি নারায়নগঞ্জ জলার ফতুল্লা এবং সিরাজদীখান সীমানা ঘেষা এলাকায় । আহত টেটাবিদ্ধ দুজনই ফতুল্লা এলাকার । বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত আছে ।  বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন আছে ।
প্রসঙ্গত, উপজেলার বালুচর টেটা যুদ্ধের ইতিহাস ৫০ বছরের বেশী সময়ের । আদিম যুগের কায়দায় একদা সেখান চর দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ হতো। তেমনি বর্তমান সময়ে এসেও রাজধানী ঢাকার সীমানাঘেষা বালুচর জমি দখল, মাটি ভরাট এবং আধিপত্য বিস্তার কেদ্র করে ঘটে চলছে সেই আদিম যুগীয় কায়দায় যুদ্ধ। স্বাধীনতার পর ৫০ বছর বালুচর কতবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে তা সঠিক করে কেউ বলতে পারবে না। তবে স্বাধীনতার পরে টেটাযুদ্ধের ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ। বাড়িঘর ভাঙচুর, দখল ও অগিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। গত পাঁচ বছরে টেটা যুদ্ধে মারা গেছেন তিনজন, টেটা উদ্ধার হয়েছে নয় হাজারেরও বেশি এবং মামলা হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *