বড় পর্দায় কাজ করে চাই মুন্সীগঞ্জের শেখ ফরিদ পলক!

মো. ফরহাদ, মুন্সীগঞ্জ : শেখ ফরিদ পলক একজন অভিনেতা। পলকের কাছে জানতে যাচ্ছিলাম কেন অভিনয়ের জগতে কাজ করেন ? এমন প্রশ্ননের জবাবে তিনি প্রবিবেদককে বলেন, “নায়ক শাকিব খানের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হই,আগ্রহ জাগে অভিনয়ের প্রতি”। 
এ আগ্রহ থেকেই বন্ধুদের নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেলে কাজ করতে শুরু করি। কিছুদিন পর চোখ পড়ে দারকাক প্রোডাকশন হাউজ এর “নতুন মুখের সন্ধানে” নামক একটি বিজ্ঞাপনে। সুযোগটি হাতছাড়া না করে সাথে সাথে অডিশন দেই এবং এই প্রোডাকশনের “রিভেঞ্জ ব্যাক ইন এ্যাকশন” নামক একটি শর্ট ফিল্মে এস.কে রায়হান আব্দুল্লাহ্’র সাথে কাজ করার সুযোগ পাই।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কানন ইয়াসিন চাচ্চুর মাধ্যমে চ্যানেল আই এর বিশেষ টেলিফিল্ম “সখিনার চন্দ্রকলা” তে কাজ করার সুযোগ পাই, যা চ্যানেল আইতে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং দুপুর ৩ টা ৫ মিনিটে স¤প্রচারিত হয়েছিল। এভাবেই সংস্কৃতি অঙ্গনে আকৃষ্ট হয়ে পরি। এক অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করতে শুরু করে অভিনয়ের প্রতি। পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি ২০২০ ইং নিজের জন্মদিনের দিনটিকে কেন্দ্র করে আমার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা “পলক এন্টারটেইনমেন্ট” চালু করার মাধ্যমে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ইউটিউবে যাত্রা শুরু করি।
শেখ ফরিদ পলক মুন্সীগঞ্জের উদীয়মান তরুন একজন অভিনেতা। তিনি এখন পর্যন্ত বহু নাটক, শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে উল্লোখযোগ্য মেহেদী হাসান জনি’র ঘুম সোহেল, হেরে যাওয়ার গল্প, ঝগড়ায় পারফেক্ট, কান কথা ইত্যাদি। মহানগর খ্যাত আশফাক নিপুন’র পরিচালনায় ওটিটি প্লাটফর্ম হইচইতে সাবরিনা ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ইউটিউবে আন্তর্জাতিক বাবা দিবস- ২০২২ইং কে কেন্দ্র করে  “ভালোবাসার নাম বাবা” শর্ট ফিল্ম মুক্তি পাওয়ার পর তুমুল আলোচনায় আসে। এছাড়াও কিউটিপাই, ৭ পর্বের ধারাবাহিক প্যাতা ভাইয়ের বিবাহ বিভ্রাট সহ আরো বহু নাটোকে অভিনয় করেন তিনি।
তার অভিনীত প্রাঙ্ক ভাই, মন চোর নামক নাটকগুলোর সুটিং কার্য সমাপ্ত হয়েছে এখন শুধু মুক্তির অপে¶ায়। তিনি ২০২১-২০২২ইং অর্থ বছরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান এম.পি’র কাহিনী অবল্বনে খ.ম. খুরশীদ এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় সরকারি অনুদান প্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র “জয় বাংলা ধ্বনি” তে নতুন মুখের সন্ধানে অডিশন দিয়ে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। যার শুটিং খুব শিগ্রই শুরুহবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও এই অভিনেতার হাতে আরো বেশকিছু ভালো কাজ আছে বলে জানিয়েছেন।
এই গুনি শিল্পী একাধারে অভিনেতা, গল্প লেখক, পরিচালক, রেডিও আরজে এবং একজন দক্ষ সংগঠক । তার রচিত ও পরিচালিত নাটক গুলোরমধ্যে কিউটিপাই, হ্যাপিন্যাস, প্রত্যাবর্তন, গল্পের নাম তুমি উল্লেখ্যযোগ্য। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিভাগের একমাত্র কমিউনিটি রেডিও “রেডিও বিক্রমপুরে ৯৯.২ এফএম” এ শ্রোতা জরিপে বর্ষসেরা আরজে হিসেবে ৩ বার বিজয়ী হয়।
পলক বলেন, আজ এ পর্যন্ত আসার পিছনে আমার বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। বাবা সবসময় আমাকে কাজের প্রতি সাহস যোগিয়েছেন। তিনি আমাকে সবসময় বলেন-  পেছনে না তাকিয়ে জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেও। পেছনে ফিরে তাকিয়ে থাকলে অথবা এক জায়গায় থেমে থাকলে জীবনে পিছিয়ে পরবে। একটি কথা মনে রাখবে, জীবন একটাই আর সফল জীবনের মানেই হলো শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
শেখ ফরিদ পলক মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের নওয়াগাঁও পশ্চিম পাড়া এক সম্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মু.সাইফুল ইসলাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার(চাকরীজীবী) মাতা-জাকিয়া সুলতানা (গৃহিণী)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *