মারা গেলেন বাপ্পী লাহিড়ী

ঢাকার ডাক ডেস্ক  : উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পী লাহিড়ী মঙ্গলবার  রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু হয়েছে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার (ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়) কারণে। এদিকে গুণী এ সঙ্গীত শিল্পীর শেষকৃত্য কাল (বৃহস্পতিবার) পবনহংস শ্মশানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাপ্পী লাহিড়ীর চিকিৎসার দায়েত্ব থাকা চিকিৎসক ড. দীপক নামজোসি (বুধবার ১৬ ফেব্রিুয়ারি) একথা জানান।

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হল ঘুম সম্পর্কিত শ্বাস-প্রশ্বাসের একটি রোগ। এই রোগ যাদের আছে ঘুমানোর সময়ে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস অনিয়মিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শ্বাস কখনও শুরু হয়, কখনও আচমকা বন্ধ হয়ে আসে। বিভিন্ন ধরনের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে। তবে সবচেয়ে বেশি যা দেখা যায়, তা হল অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই রোগে আক্রান্তের গলার পেশি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শিথিল হয়ে আসে। এই পেশি মুখগহ্বরের টাকরা, আল জিভ, জিহ্বা ও টনসিলের মতো অংশগুলিকে ধরে রাখে। ফলে এই পেশির শিথিলতায় শ্বাস নেওয়ার পথটি রুদ্ধ হয়ে আসে ও ঘুমের সময় আচমকা শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়।

এই রোগের আরো একটি লক্ষণ হল সশব্দে নাক ডাকা। এ ছাড়াও ঘুমের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে আসা, আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়া ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায় এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের। বিশেষজ্ঞদের মতে ১০ সেকেন্ডের বেশি এমন অবস্থা থাকলে দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশ কমে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন, বার্ধক্যজনিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, শ্বাসনালীর সমস্যা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণা বলছে, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই রোগের ফলে ঘুমের মধ্যে হ্রদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে ছেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলে বাপ্পী লাহিড়ির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।  মুম্বাইয়ের পবনহংস শ্মশানে শেষ কৃত্যের আয়োজন করা হবে ।

১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ির। হিন্দিতে ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’, বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ও ভালোবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম প্রভৃতি ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান।

১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি। তারপর দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ছবির গান গেয়েছেন। সুর দিয়েছেন। শরীরে প্রচুর সোনার গয়না পরতে ভালোবাসতেন। বলতেন, ‘আমার ভগবানের নাম সোনা!’ ছিল গায়কির নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য় পরিচিতি দিয়েছিল। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার এবং সম্মান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *