মুন্সীগঞ্জ‌ আড়িয়ল বিলে ভ্রমণের নামে বখাটেদের উশৃঙ্খলতা অশ্লীল ও শব্দ দূষণে অতিষ্ট স্থানীয়রা

স্টাফ: মুন্সীগঞ্জ‌ের আড়িয়ল বিলে ভ্রমণের নামে বখাটেদের উশৃঙ্খলতা অশ্লীল ও শব্দ দূষণে অতিষ্ট স্থানীয়রা ।   পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরা পরছেন বিপাকে। মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো বিলে শুরু হয়েছে বখাটেদের উশৃঙ্খলতা। উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকরা মিলে বিলে পিকনিকের নামে নেশা করে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নানা রকম অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছে। পুটিমারা-আলমপুর খালের অংশে এরকম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রলার দেখা যায়। প্রতিটি ট্রলারে উচ্চ শব্দের সাউন্ডবক্স লাগিয়ে বিকৃত শব্দের গানের তালে নাচতে নাচতে কেউ কেউ তাদের পরনের কাপড় পর্যন্ত খুলে ফেলছে। বিষয়টি খালের দুই পারের বাসিন্দাদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। কয়েকটি নৌকা ও ট্রলারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র, সাউন্ডবক্স ছাড়া বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। ছবি তুলছে, বিলের পানিতে ভিজিয়ে দিচ্ছে পা। বখাটেরা সুযোগ বুঝে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলে বেড়াতে আসা এসব নৌযান গুলোর সামনে এসে নানা ভাবে যৌন হয়রাণি করছে। বিলে ভ্রমনের নামে উশৃঙ্খলতার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ঝর উঠেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ২৬ হাজার একর আয়তনের আড়িয়ল বিল বর্ষা এলে সৌন্দর্যের পুরোটা তুলে ধরে। বর্ষা এলে বিলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে নৌ ভ্রমনে ছুটে আসে হাজারো মানুষ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিলে বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এমনকি তাদের উশৃঙ্খলতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি মোবাইলকোর্টও। নিরাপত্তা হীনতার কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা বহু মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে ওমর হিত নামে একজন তার ফেসবুক টাইম লাইনে লিখেছেন, বর্ষকালে শুরু হয় আড়িয়ল বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের নামে,উচ্চ আওয়াজে অশ্লীল গান বাজনার সাথে বখাটেদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির নাচ! যা দেখে সভ্যজ্ঞান সম্পূর্ণ মানুষ লজ্জায় হতবিহ্বল হয়ে ক্ষোভে একাকার হয়ে যায়! ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিবাদ করতে গেলে এযেন নিশ্চিত মৃত্যুকে বরণ করতে যাওয়া! ঈদুল আযহার দিন দুপুরের পর থেকে বখাটেদের সাউন্ড বক্সের বিকট আওয়াজে, আড়িয়ল বিলের নদীর আশেপাশের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে! এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসন কেউ যেন এই অন্যায় দেখার কিংবা প্রতিকার করার নেই! গতবছর বর্ষাকালে চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে সাময়িক ভাবে বখাটেদের উৎপাত থামলেও পরবর্তীতে নজরদারি না থাকার কারণে বখাটেদের উৎপাতের মাত্রা চরম পর্যায় পৌঁছেছে যার ধারাবাহিকতায় আজও উৎপাত চলছেই! সাইফুল ইসলাম সুমন নামের একজন সচেতন নাগরিক সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখেন, বিলে বখাটেদের উশৃঙ্খলতা নিয়ে এখনই কিছু একটা করা উচিৎ। রাজিব মাহমুদ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এখানে ভ্রমন বাড়বে এটাই স্বাভাবিক বিষয় ছিল। কিন্তু বখাটেদের এমন আচরণে শ্রীনগরের পর্যটনের কেন্দ্র বিন্দু আড়িয়ল বিল থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি শ্রীনগরে অবস্থিত টুরিস্ট পুলিশের থানার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিলে কোন দিন তাদের কোন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। আসলে তাদের কাজটা কি? শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, গত বছর ও তার আগের বছর আড়িয়ল বিলে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছিল। একাধিকবার মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে সাউন্ডবক্স জব্দ ও সাজা প্রদানের কারনে বখাটেদের উৎপাত কমে আসে। সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ,আলমপুর-ষোলঘর-গাদিঘাট এলাকার ট্রলার মালিক ও এই অঞ্চলের সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া প্রদানকারীদেরকে উশৃ ঙ্খলতা সৃস্টি জন্য জবাবদিহীতার আওতায় নিয়ে আসেন। এতে গত বছর বিলের পরিবেশ সহনীয় পর্যায়ে ছিল। তিনি আরো বলেন, বিল এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, টুরিস্ট পুলিশ, শ্রীনগর থানা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলে আড়িয়ল বিল এবছর হতে পরে স্থানীয় পর্যটনের আধার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *