মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পালিয়ে আসা মেয়েকে নিতে এসে হামলার শিকার একই পরিবারের ৪ সদস্য

তুষার আহাম্মেদ –  মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে আসা মেয়েকে নিতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন মেয়ের পরিবারের ৪ সদস্য। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানাগেছে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে সিরাজদিখান উপজেলার শেখেরনগর গ্রামের তরুনী (১৬) টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে ছাব্বির এর কাছে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চলে আসে। পরে মেয়ের অভিবাবকগণ বিকালে ওই মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আবদুল্লাপুর গ্রামে আসলে বিকালে এনিয়ে আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদে শালিশী বসে। শালিশীতে ওই তরুনিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয় শালিশের লোকজন। কিন্তু ভুক্তভোগী তরুনিকে নিয় ইউনিয়ন পরিষদ হতে বের হয়ে পরিষদের পাশের রাস্তায় পৌছালে ওই তরুনি তার বাবা ও ২ খালাকে ধরে বেধরক মারধর করে ছাব্বির (২১) ছাব্বিরের পিতা-কবির হোসেন, মামা আশ্রাফুল, চাচা নাছিরসহ ১৫/২০জন। আহত অবস্থায় ওই তরুনি ও তার পরিবারের লোকজন টঙ্গিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা বলেন, আমার মেয়ের সাথে ছাব্বিরের ১০ মাস যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। আমি আমার মেয়ের অন্যত্র বিবাহ ঠিক করেছি। কিন্তু আমার মেয়ে পালিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সাব্বিরের বাড়িতে চলে আসে। পরে আমরা মেয়েকে নিতে আসলে আবদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদে শালিশী বসে। শালিশীতে আমার মেয়েকে আমার কাছে বুঝিয়ে দিলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ হতে বের হয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে আসার সময় সাব্বিরসহ ওর বাবা,মামা ও চাচারা আমাদের উপর হামলা চালায়। আমিসহ আমার মেয়ে ও আমার ২ শালিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ব্যাপারে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য কৃষ্ণ দে বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদে শালিশী শেষে মেয়ে ও মেয়ের পরিবারকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য রাস্তায় আসি। এ সময় ওরা মেয়ের পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে মেয়ে ও মেয়ের বাবাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং আমার সামনে ওদের মারধর করে। বহুকষ্টে আমি ওদের হাত হতে মেয়ের পরিবারকে রক্ষা করি।

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানা ডিউটি অফিসার পুলিশের উপ পরিদর্শক এসআই সৈকত বলেন, ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবার থানায় এসেছে। অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *