মুন্সীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ-২, আহত- অর্ধশতাধিক

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, : মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিনিময়, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ২ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক লোক । শনিবার (৯ ই এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নোয়াদ্দা ও চর বেশনাল গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারী ও সাবেক চেয়ায়ম্যান মহসিনা হক কল্পনার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের তথ্য সুত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে থেকে সদর উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিপন হোসেন পাটোয়রী ও আ.লীগ নেত্রী মহসিনা হক কল্পনার সাথে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পক্ষ দুটির মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১সালের ইউপি নির্বাচনের রিপন পাটোয়রী বিজয়ী হলে মহসিনা হকের লোকজনকে এলাকা ছাড়া করে দেয়। সম্প্রতি মহাসিনা হকের লোকজন এলাকায় ফিরে আসলে আবার দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রিফাতের মা জানান, আমি আমার ছেলেকে বাড়িতে রেখে মরিচ তোলার জন্য জমিতে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে আমার বাড়ির উঠানে খেলা করছিল এ সময় রিপন পাটোয়ারীর লোকজন এসে এলোপাতাড়িভাবে গুলি করে। আমার ছেলের হাতে ও পায়ে গুলি লাগে।

নোয়াদ্দা গ্রামের আহত তাসলিমা বেগম বলেন, কল্পনার লোকজন বৃহস্পতির২০-২৫ জন সকালে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমার বাড়ি ঘরে ভাঙচুর লুটপাট করে। আমার ঘর হতে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার ঘরে টিভি ফ্রীজ সব ভেঙে ফেলে। আমি বাধা দিলে আমার হাত পিটিয়ে ভেঙে ফেলে।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মহসিনা হক বলেন, গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই আমার লোকজন গ্রামছাড়া ছিল। কিছুদিন আগে তাদেরকে সভার মাধ্যমে গ্রামে উঠানো হয়। তবে তার একদিন পরে আবারও আমাদের লোকজনদেরকে হামলা করে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করে দেয় রিপনের লোকজন। যে কয়েকজন ছিল আজকে ভোরে তাদের উপর হামলা করা হলো। আমাদের বেশ কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ করে আহত করেছে।

এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারী জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। গত নির্বাচনের পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মহসিনা হকের অনেক লোকজন গ্রামের বাইরে ছিলেন। কয়েকদিন আগে একটি সভার মাধ্যমে তার লোকজনকে গ্রামে আনা হয়। গ্রামে আসার পর থেকেই তারা আবার ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। গত ২৮ শে মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত পরপর তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা গুলোতে তার অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনার খবর পাওয়ার ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যারা গ্রামকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *