মুন্সীগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদ বাজারের বিক্রিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা

তুষার আহাম্মেদ –  ঈদকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের জেলা উপজেলার বড় বড় শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোতে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। থেমে নেই ফুটপাতের ঈদ বাজারও, রীতিমত জমে উঠেছে এটি। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার  বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ছেলে বুড়ো সবার হাতে বড় বড় ব্যাগ নিয়ে এ ফুটপাতের দোকান ও দোকান ঘুরে বেড়াচ্ছে।
রমজান মাস শেষে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের এখনো বাকি প্রায় বেশ কিছু দিন। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদ বাজারের বিক্রিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দাম ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। ঈদ যতোই এগিয়ে আসছে, বিক্রি ততই বাড়ছে তাদের। সে তুলনায় এখনো ততোটা জমজমাট নয় বড় বড় শপিংমল গুলো।
বিভিন্ন ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের দেখা যায় কথা বলারও সময় পাচ্ছেন না তারা। ক্রেতারাও দোকান ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত। আতিকা নামের এক গৃহিণী বলেন, ভেবে ছিলাম ঈদের অনেক আগে এসেছি ভিড় থাকবে না, তবে দেখছি অনেক ভিড়, এর মধ্যে ঈদের বাজার করতে হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ মসজিদ মার্কেটের পূর্বপাসের মুন্সীগঞ্জ কাটাখালির ব্যবসায়ি বকুল ও সোহেল জানান, ঈদের সময় যতো কাছে আসবে এই বেচাকেনা মধ্যরাত ছাড়িয়ে যাবে। মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মেয়েদের  থ্রি-পিস ৪৫০ টাকা থেকে হাজার/১২০০ টাকা, শাড়ি ৪৫০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।
ফুটপাতের মার্কেটে কাপড়ের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে জিনিস এখানে ২৫০ টাকা মার্কেটে সেটাই ৫০০/৬০০ টাকা, তা হলে কেন আমি নিউমার্কেটে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করবো!
ফুটপাতের কাপড়ের দাম কম কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে রফিকুল নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, কাপড় একই, আমাদের এসি খরচ নেই, লাইট খরচ নেই, তাই আমরা কম দামে বিক্রি করছি।
এদিকে আবার দেখা যায়, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদ কেনা-কাটা সারছেন ফুটপাত থেকে। এবারের কেনা-বেচা তুলনামূলক ভালো বলে জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।ঈদের কেনাকাটার জন্য নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের জন্য এক রকম আশীর্বাদ ফুটপাতের দোকানগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি হকারদের হাঁকডাকে মূখর থাকে ফুটপাতের প্রতিটি দোকান।
ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এসব দোকানগুলোতে প্রায় সব কিছুই পাওয়া যায়। তার মধ্যে রয়েছে মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিচ, টু পিচ, লেহেঙ্গা, ফোরাগ এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকসহ সাধ্যের মধ্যে সব পণ্য। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জিসহ বাচ্চাদের জন্য বাহারী নানান ধরনের পোশাক।মাঝে মাঝে বিত্তবানদেরও ফুটপাত থেকে কাপড়চোপড় কিনতে দেখা যায়।
তবে ঈদ মার্কেট এখানেই শেষ না, ঈদকে সামনে রেখে বসে নেই মৌসুমি হকাররাও। বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ট্রাফিক সিগনালে থামা গাড়িগুলোর দিকে ছুটছেন একেকজন। কারো হাতে আতর, কারো হাতে টুপি কারো হাতে নামাজ শিক্ষার বিভিন্ন ধরনের বই সামগ্রী। যানজটে গাড়িতে বসে থাকা মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন এই ভাসমান হকাররা। তাদের বিক্রিও নেহাত কম নয়।
মুন্সীগঞ্জে জমে উঠেছে জুতা-স্যান্ডেলের বেচাকেনা
পোশাকের সাথে সঙ্গে মানানসই জুতা-স্যান্ডেল মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিচয়বাহক। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা-স্যান্ডেল পরা এখন কেবল মেয়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলে ধরতে ছেলে-মেয়ে সবাই এখন তৎপর।
ঈদ ঘিরে পোশাকের পাশাপাশি জুতার দোকানগুলোতেও জমে উঠেছে বেচাকেনা। গতকাল মসজিদ মার্কেট আফতাব প্লাজা,শহরের বিভিন্ন মার্কেট, শ্রীনগর উপজেলার , শ্রীনগর এম রহমান , শ্রীনগর প্লাজা ,বিক্রমপুর শপিং মল , সহ বিভিন্ন জুতার শো-রুম ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
বাটা, এ্যাপেক্স, লোটো ও হামকো’র মত নামীদামি ব্র্যান্ডের জুতার চেয়েও পট্টির চটি স্যান্ডেলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। নামীদামি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর চেয়ে অনেকগুণে ভিড় বেশি স্যান্ডেল পট্টিতে। এবার ঈদে লুঙ্গি ড্যান্স, তাকানো চটি, আর্জেন্টিনা, কলাপুরী, বেগীসহ চায়না চটি নজর কাড়ছে মেয়ে ক্রেতাদের। ১৫০-৭০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এ জুতা-স্যান্ডেলগুলোর দাম।
ছেলেদের জুতার মধ্যে এবার ঈদে স্লিপার , কনভার্স ও সু-এর চাহিদাই বেশি। এ ছাড়া কিছু স্পোর্টস সুও বিক্রি হচ্ছে। চামড়া, রেক্সিন ও কাপড়ের জুতার মধ্যে ডিজাইন ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে দামের হেরফের হয়। চামড়ার স্যান্ডেলের দাম ৬৯০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা, বুট শু এক হাজার ৩৫০ থেকে ৪ হাজার ৬৫০ টাকা, স্নিকার্স ৮৫০ থেকে দুই হাজার ৪৫০ টাকা এবং বিভিন্ন ডিজাইনের মোকাসিন পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ৫৫০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। আর রাবার বা স্পঞ্জের স্যান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এবারও বাচ্চাদের জুতায় রয়েছে বাহারি ডিজাইন ও নতুনত্বের ছোঁয়া। ডোরেমন, মটু-পাতলু কার্টুন সংবলিত জুতাই বিক্রি হচ্ছে বেশি। ২৫০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এগুলো।
মুন্সীগঞ্জ শহর জামে মসজিদ মার্কেটের স্বত্বাধিকারী চঞ্চল স্টরের মালিক চঞ্চল, আফজাল, পনির, (বাটু) রাসেল  জানান, পাইকারিতে জুতা বিক্রি শুরু হয়েছে মূলত রোজার আগে থেকেই। এবার প্রস্তুতিও ভাল ছিল। ঈদে ব্যবসা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, এখনও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই জুতার বাজার জমে উঠবে বলে তিনি জানান। আফজাল সুজের ম্যানেজার নাসির মিয়া জানান, এ মার্কেটে দেশী জুতা বেশ ভাল চলছে। তবে এবার বিদেশী জুতারও বেশ চাহিদা রয়েছে। আরও কয়েকদিন পর জুতার বাজার পুরোপুরি শুরু হবে বলে তিনি জানান।
ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ব্যবসায়ীর জানান, বিগত ঈদ মৌসুমে দোকানভেদে প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। এবার ওই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। জুতার বিকিকিন সম্পর্কে লেদার টেকের স্বত্বাধিকারী মাসুদ আহমেদ বলেন, চীন থেকে আমদানি করা পণ্য বাজার দখল করে আছে। এসব সস্তা জুতার ভিড়ে মার খেয়ে খাচ্ছে দেশীয় জুতা। এজন্য দেশী জুতার কাঁচামালের উচ্চমূল্যকে দায়ী করেন তিনি।
অবশ্য এবারের ঈদ বৃষ্টির মৌসুম হওয়ার কারণে চামড়ার জুতা বিক্রি নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেছেন নন-ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রেতারা। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ শহর জামে মসজিদ মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী আরিফ,জনি, বুট্টু তারেক ও আবুসাঈদ বলেন, চামড়ার জুতা বিক্রি অপেক্ষাকৃত কম হতে পারে।
বৃষ্টির কারণে আমাদের প্রধান ক্রেতা নিম্নবিত্তের মানুষের মাঝে সিনথেটিক ও রাবার কিছুটা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *