রাশিয়ার ’নর্ড স্ট্রিম ২’ গ্যাস পাইপলাইনের বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে তাহলে রাশিয়ার প্রধান একটি গ্যাস পাইপলাইন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নর্ড স্ট্রিম ২ নামে পরিচিত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস জার্মানিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য এই পাইপলাইনটি এখনও চালু হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে স্থানীয় সময় সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জো বাইডেন একথা বলেন। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে বৈঠক করেন জো বাইডেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইনের ‘অবসান’ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করে রেখেছে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া। যেকোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছে মস্কো।

ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা বরাবরই বলে আসছে যে, পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে হামলা হলে তারা রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের রুশ-বিরোধী কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। কারণ রাশিয়ার জন্য এই গ্যাস পাইপলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্য জার্মান চ্যান্সেলর যখন ওয়াশিংটন সফর করছেন তখন ইউরোপে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে মস্কো সফর করছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প কিভাবে বন্ধ করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি জো বাইডেন। তবে প্রশ্নকারী সাংবাদিকের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি যে আমরা সেটা করতে পারবো।’

এর আগে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে নর্ড স্ট্রিম ২ নামে পরিচিত এই গ্যাস পাইপলাইন বন্ধের বিষয়ে প্রথম হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছিলেন, ‘আমি পরিষ্কার করেই বলে দিতে চাই, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে, তাহলে নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আর সামনে এগোবে না।’

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প কিভাবে বন্ধ করবে এবং এটি বন্ধ বা বাতিল করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের আছে কি না, সে বিষয়ে সেসময়ও বিশদ কোনো ব্যাখ্যায় যাননি নেড প্রাইস। তবে তিনি এটিই বলেছিলেন যে, ‘(ইউক্রেনে হামলা হলে) এই প্রকল্প যেন সামনে না এগোয়, তা নিশ্চিত করতে জার্মানির সঙ্গে কাজ করবো আমরা।’

উল্লেখ্য, ১১ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১২২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি নির্মাণ করতে রাশিয়ার পাঁচ বছর সময় লেগেছে। বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে এবং ইউক্রেনের ভেতর যাওয়া এই পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে আরও বেশি পরিমাণে গ্যাস রফতানি করতে চায় মস্কো।

তবে গ্যাস পাইপলাইনটি এখনও চালু হয়নি। জার্মান আইন না মানায় এর অনুমোদন আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে গত বছরের নভেম্বর জানানো হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *