“শীকালীন সবাজি চাষীরা সিত্রাংয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্ট করছেন ”

কাজী বিপ্লব হাসান : কার্তিক-অগ্রহায়ন মাস হেমন্তকাল। হেমন্তের এই দিনে উত্তরা হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে প্রকৃতিতে। সকালে ঘাসের মাঝে বিন্দু বিন্দু শিশিরকনা মনে করিয়ে দেয় শীত আসছে। কবির ভাষায় ‘পৌষ তোকে ডাক দিয়েছে আয়রে ছুটে আয়।’ আর এই শীতের আগমনী বার্তাতেই চাষীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শীতকালীন শাক-সবজি বুননে। মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শীতকালীন সবজি আবাদে। চারা রোপনের আগে জমিতে নিরানি দেওয়া, জমিতে চারা রোপন করা, চারা গজিয়ে উঠায় সেখানে পানি দেওয়া। এসব কাজেই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনি একজন কৃষক হচ্ছে মহাকালি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্য মহাকালি গ্রামের সবজি চাষী জসীম কাজী। তিনি সীম ক্ষেতের পরিচর্যা করছিলেন। তিনি বললেন, এ বছর ১৬০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন সবজি রোপন করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে সীম, মুলা, লাউ, বেগুন, মচির, ডাটা, জালি ও দুন্দুল। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং হয়েছিল। এর প্রভাব মুন্সিগঞ্জেও পড়ে। তিনি জানান, সিত্রাং এর কারনে তার মরিচ ক্ষেত, মুলা ক্ষেত, লাউ ও দুন্দোল ক্ষেত বেশি ক্ষতি হয়েছে অন্য সবজির তুলনায়। প্রায় ১ লাখ টাকার মতো তার ক্ষতি হয়েছে। জসীম কাজী দুঃখ করে বলেন, প্রায় ৪ লাখ টাকা লাগছে সবজি চাষে। এর মধ্যে ঝড়-তুফানে ১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এরপরও যদি আবহাওয়াটা ভালো থাকে রৌদ্রজ্জল দিন থাকে তাইলে ফসলের পরিমান বেশি হইব। এতে লাভ না হোক লোকসানের টাকাটা পোষাইয়া নিতে পারুম। একই ইউনিয়নের মধ্য মহাকালী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান আমাদের নিজের সীম ক্ষেত দেখিয়ে বললেন, এখানে যেই সীমফুল দেখতাছেন তারচেয়ে দুই-তিন গুন ফুল ও ফলন দেখতে পাইতেন যদি ঝড়-তুফানটা না হইত। ড়ের পরে ২ দিন জমিতে পানি জইম্যা আছিল। এতে অনেক সীমের মইরা গেছে। তিনি কি চাষ করেছেন জানতে চাইলে বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে তিনি সীম, লাউ ও মরিচ চাষ করেছেন। ঝড়ের কারনে তার ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হইছে। তবুও আশা করেন রৌদজ্জ্বল দিন থাকলে বাকি সবজি ফলন দিয়াও ক্ষতি পূরন করতে পারবো। মধ্য কেওয়ার এর কৃষক মিলন বলেন, ২৮ শতাংশ জমিতে তিনি টমোটো চাষ করেছিলেন। সিত্রাং এর কারনে সব চারাই ঢলে পড়েছে। আবার নতুন করে দানা বপন করে চারা লাগিয়েছে নতুন আশায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। সিত্রাং এর কারনে তার ১০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।


মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খুরশীদ আলম জানান, মুন্সিগঞ্জে এ বছর শীতকালীন সবজির মধ্যে লাউ, সীম, মুলা, বাধা কপি, ফুল কপি, মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, টমেটো, উচ্ছে, খীরাই, ধনে পাতা, ডাটা ও বেগুন চাষ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলাতে ১ হাজার ৭ শত ৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩০ হেক্টর, টংগীবাড়ী উপজেলাতে ২০০ হেক্টর, শ্রীনগর উপজেলাতে ২০০ হেক্টর, সিরাজদিখান উপজেলাতে ৭৫০ হেক্টর, লৌহজং উপজেলাতে ১৫০ হেক্টর এবং গজারিয়া উপজেলাতে ২৫০ হেক্টর জমিতে এখন পর্যন্ত শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মুন্সিগঞ্জ জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪,১০০ হেক্টর জমিতে। কি পরিমান উৎপাদন হবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর (২০২২-২৩) শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা হচ্ছে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *