শ্রীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতি

কাজী বিপ্লব হাসান : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নানা কাজ নিয়ে চলছে নানা রকম দুর্নীতি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারি মীর মোস্তফা আলীর বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে উপজেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন। তারা নাম প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করছে এ কারনে যে তাতে তাদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আরো চাপ আসতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষিকা জানান, তার মুন্সীগঞ্জ সদরে অবস্থিত পিটিআই ইনস্টিটিউশনের ট্রেনিংয়ের জন্য নাম এসেছে। কিন্তু তিনি পেগমেন্ট বলে ট্রেনিংয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। তাই তার নামটি কেটে দিতে বলে উচ্চমান সহকারি মীর মোস্তফা আলীকে। এজন্য তার কাছে টাকা দাবি করেন উচ্চমান সহকারি মীর মোস্তফা আলী। অপর একজন শিক্ষিকা জানান, তিনি এইচএসসি পাশ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি বিএ পাশ করেন।বিএ পরীক্ষার পাশের সার্টিফিকেট তার সার্ভিসবুকে জমা দেওয়ার জন্য অফিসে আসলে তাকে টাকা দিতে বলে এই উচ্চমান সহকারি। নাম না প্রকাশ করতে ইচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, তিনি মুন্সিগঞ্জ পিটিআইতে ট্রেনিং দিতে ইচ্ছুক। অথচ তার নাম আটকে রাখে উচ্চমান সহকারি মীর মোস্তফা আলী। তিনি সেই শিক্ষকের কাছে টাকা দাবি করে বলেন, টাকা দিলে তিনি তাকে ট্রেনিংয়ে যেতে দিতে পারবেন। এরূপ আরো ১০-১২ জন শিক্ষক প্রায় মাসখানেক যাবৎ এই উচ্চমান সহকারির বিরুদ্ধে এই ধরনের নানা অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মীর মোস্তফা আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে এই কথা? তাকে সরাসরি এসে আমার নামে অভিযোগ করতে বলেন। শ্রীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এই ধরনের কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আমার জানা নেই। শ্রীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন স্যারের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই। আমি মাত্র ৩ মাস হয় এখানে বদলী হয়ে এসেছি। আমি অফিস সহকারির রুমে খোঁজ নিয়ে দেখব। তাছাড়া যে সকল শিক্ষক উচ্চমান সহকারির মীর মোস্তফা আলী দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছে তাদের আমার এখানে এসে আভিযোগ করতে বলুন। তাহলে সত্যটি বের হয়ে আসবে। তাছাড়া পিটিআই ট্রেনিং এর ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সিনিয়ার-জুনিয়ার বিবেচনা করে তারা নাম পাঠায়। এখানে আমাদের কোনো কিছু করার নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মাসুদ ভূঁইয়া স্যার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্কুল মাত্র খুলেছে আমি সপ্তাহের সেখানে গিয়ে ব্যাপারটি দেখব। আপনারা অপেক্ষা করুন। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান করে ব্যবস্থা নিব। উচ্চমান সহকারী মীর মোস্তফা আলী দীর্ঘ দিন যাবৎ শ্রীনগর উপজেল প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আছে। একজন সরকারি চাকরিজীবি একই যায়গায় এত বছর কীভাবে থাকে? এ প্রশ্নের উত্তরেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, আমি তার চাকারীর মেয়াদ দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *