সিরাজদিখানে টিসিবি কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ

তুষার আহাম্মেদ – মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর উপকার ভোগী তালিকা তৈরীতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার সবচাইতে বেশি বালুচর ইউনিয়নে ৯৮৫ জন কার্ডধারী তালিকায় বেশিরভাগ স্থানীয় ইউপি সদস্যের আত্মীয় ব্যবসায়ী, জমির মালিক,পাকা ভবনের মালিক, বিত্তশালী ও প্রবাস ফেরত ব্যক্তি নামও রয়েছে।এছাড়া অত্র ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলেক চান সজীবের বিরুদ্ধে এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্যের ছবি ও আইডি কার্ড ব্যবহার করে দুবার (টিসিবি)পণ্য নিয়েছে অথচ ছবি ও আইডি কার্ডের মালিক এ বিষয়ে অবগত না।বিষয়টি জানাজানি হলে তারা সরাসরি অভিযোগ করেছে বালুচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সচিব বরাবর।

স্বল্প আয়ের জনগোষ্টিকে উপকারভোগী হিসেবে তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভূক্তির জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেটি মানা হয়নি বালুচর ইউনিয়নে। বঞ্চিতদের অভিযোগ ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের ইচ্ছামাফিক আত্বীয়-স্বজন ও নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে টিসিবির ফ্যামেলী কার্ড করেছেন।এছাড়া অন্যের ছবি ও আইডি কার্ড ব্যবহার করে স্বয়ং স্থানীয় ইউপি সদস্যরা (টিসিবি) এর উপকার ভোগী হচ্ছেন।এতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকায় চলছে তোলপাড়।

ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক টিসিবি পণ্য বিতরণের নামের তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠে।২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব যাদের নামে কার্ড করেছে তার একটির নাম্বার ৩০৫৯৭৪০৬০২৭ কার্ডে ছবিও নাম ব্যবহার করা মোঃ হাবীব বলেন,এই কার্ড স¤পর্কে আমি কিছুই জানিনা অথচ আমার ছবি এবং নাম ব্যবহার করেছে এবং এখানে যার টেলিফোন নাম্বার ব্যবহার করেছে সেও আমার আত্মীয় এবং অনার স্বামীর নাম ও হাবীব।সুতরাং আমাদের মেম্বার সাহেব এই কাজটা একেবারে পরিকল্পিত ভাবে করেছে।এবং দুইবার পণ্য এসেছে অথচ আমরা জানিনা।স্থানীয় মহিলা মেম্বার যখন এই কার্ডে আমার ছবি দেখেছে তখন স¤পূর্ণ বিষয় বুঝলাম।স্বল্প আয়ের জনগোষ্টি এটার উপকারভোগী সেখানে আমাদের নাম ছবি ব্যবহার করা আমাদের উজ্জতের ব্যাপার তাই আমি চেয়ারম্যান ও সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি এবং আপনাদের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব বলেন,বিষয়টা এভাবেনা টিসিবি মাল দিছে যখন,তখন কে বা কাহারা হাবীব মিয়ার ছবিটি কার্ডে লাগাইছে কিন্ত হাবীব মিয়ার নামে কোন তালিকা বা কোনকিছুই নাই।ওনার ছবি থাকার কারনে ছবিটি দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে হাবীবের সাথে। বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন,এই বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা, আপনার মাধ্যমে জানলাম খোজ খবর নিয়ে যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তা হলে ইউপি সদস্য আলেক চান সজীবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম তানভীর বলেন,বিষয়টা এইমাত্র জানলাম আপনার মাধ্যমে আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *