সিরাজদিখানে নির্বাচনের ১৩ দিন পর মিলল সিলমারা ১টি বইয়ের মুড়ি

তুষার আহাম্মেদ – চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ১৩ দিন পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে মিলল সিলমারা ব্যালট পেপারের ১টি বইয়ের মুড়ি। গতকাল  বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের কুন্দরীয়া হাজী ভাসানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ৩০ ফুটের ভিতরে এলিভেটেড রেললাইন সংলগ্ন একটি জমির পাশে সিলমারা ১টি বইয়ের মুড়ি পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসী দেখে এ বিষয়ে থানায় খবর দিয়ে।
এলিভেটেড রেললাইনের চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের এই স্থানে একটি অটোরিকশা এসে থামে। পরে রাস্তার নিচে প্রশাব করতে নামলে লোকটি একটি ব্যালট পেপারের বইয়ের মুড়ি পড়ে রয়েছে সেটা দেখে আমাদের ডাক দিলে আমি এসে দেখি সেখানে একটি বইয়ের মুড়ি পড়ে রয়েছে। আমিও বইটির মুড়ি ধরিনি তাকেও ধরতে নিষেধ করেছি।
মো.জমির আলী বলেন,আমি প্রশাব করার জন্য গাড়ি থেকে নেমে জমিতে গেছি। তখন গিয়ে দেখি একটি ব্যালট পেপারের বইয়ের মুড়ি পড়ে রয়েছে। সেটা দেখে আমি পাহারাদারকে ডাক দিয়ে দেখাই। তিনি বলছে আপনি ধরেন না, আমিও ধরলাম না, পরে আমি থানাতে খবর দেই। থানা থেকে আমাকে বলছে আপনি সচেতন নাগরিক আপনি কাউকে নিয়ে এটা থানাতে এসে জমা দেন। আমি চিন্তা করলাম যদি কোনো কিছু হয় সেজন্য আমি আর এটা কিছু করি নাই। পরে আপনাদের খবর দিচ্ছি।
আনারস প্রতীকের এজেন্ট মো. মাসুম বলেন,নির্বাচনের দিন বিকেলে কুন্দুলীয়া হাজী ভাষানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায়ে ভোট কারচুপির অভিযোগে উপস্থিত ভোটার, সমর্থক ও প্রাথর্ীদের মধ্যে ৪ ঘন্টা ব্যাপি মারামারি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। তখন প্রিজাইডিং অফিসারসহ সকল সরকারী কর্মকর্তা ও প্রাথর্ীদের এজেন্টগন কেন্দ্রের ভিতর প্রায় ৪ ঘন্টা বন্দী অবস্থায় থাকে। পরে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে বিজিবি ও পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্বার করে। আর প্রিজাইডিং অফিসারসহ সকল সরকারী কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
বাসাইল ইউপির আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শামসুজ্জামান পনির বলেন, এই কেন্দ্রে বিকেলে দিকে ৪ ঘন্টা মারামারি ঝগড়া সৃষ্টি হয়। প্রিজাইডিং অফিসারসহ সকল অফিসারদের রুমে আটকে রাখা হয়। পরে আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানালে তারা পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার করে। আমাকে ইচ্ছাকৃত করে ৭৪ ভোটে ফেল করানো হয়েছে। আমি এই কেন্দ্রের বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, নির্বাচন কর্মকর্তা সহ সকল দপ্তরে জানিয়েছি। তাদের কাছে ভোট পূর্ণ গণনার দাবি জানিয়েছি। আর আজকে ১৩ দিন পর ব্যালট পেপারের বইয়ের মুড়ি পাওয়া গেল এটা একটি দুঃখজনক। আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়েছে। এখানে ভোট চুরি করে আমাকে ফেল করানো হয়েছে। আমি এটার যথাযথ বিচার চাই।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খোকন মিয়া বলেন,অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু নির্বাচনে ১৩ দিন পর ব্যালট পেপারের বইয়ের মুড়ি পাওয়া গেল কি করে আমি জানিনা।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটের আনুষাঙ্গিক মালামাল এবং ব্যালট পেপারের বইয়ের মুড়িসহ সিলগালা করে আমাকে জমা দিয়ে গেছে। এরপর আজকে কিভাবে এলাকাবাসী পেল সেটা আমি জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *